লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি: লক্ষ্মীপুর জেলা আওয়ামী লীগের দ্বি-বার্ষিক সম্মেলনকে ঘিরে নেতাকর্মীরা উজ্জীবিত হয়ে উঠেছে। আনন্দ বিরাজ করছে দলের সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদেরও। মঙ্গলবার ২২ নভেম্বর লক্ষ্মীপুর জেলা ষ্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হচ্ছে এ সম্মেলন। জেলার সকল ইউনিট থেকে অর্ধলাখ নেতাকর্মী জড়ো করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জেলা আওয়ামী লীগ। সম্মেলনকে সফল করতে জেলা আওয়ামী লীগের বিভিন্ন ইউনিট প্রস্তুতি মূলক সভা করেছেন।
সম্মেলনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সড়ক ও সেতু মন্ত্রী এবং দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এমপি, আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য শেখ ফজলুল হক সেলিম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ, সাংগঠনিক সম্পাদক ও জাতীয় সংসদের চীফ হুইফ আবু সাঈদ মাহমুদ স্বপনসহ জেলা-উপজেলার প্রত্যেক ইউনিটের নেতাকর্মীরা উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।
এদিকে লক্ষ্মীপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি পদে প্রার্থী বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ শাহজাহান। তিনি জেলা আওয়ামী লীগের বর্তমান কমিটির সহ-সভাপতি। দলের দুঃসময়ে মোহাম্মদ শাহজাহান দীর্ঘদিন জেলার রামগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছিলেন। তখন বিএনপি-জামায়াত সরকার ও রামগঞ্জে সন্ত্রাসী গোষ্টি সেভেন স্টার বাহিনীর অত্যাচার-নির্যাতন ও হামলা-মামলা সহ্য করে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের আলগে রাখেন। দলকে সংগঠিত করে সবসময় চাঙ্গা রেখেছিলেন। এজন্য রামগঞ্জে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে শাহজাহানকে দুর্দিনের নেতা হিসেবে সবাই চিনেন।
রামগঞ্জ উপজেলার ভাটরা ইউনিয়নে ১৯৫৭ সালে তার জন্ম। তিনি চার ছেলের জনক। ব্যবসায়ী হিসেবেও সফল তিনি।
১৯৬৮ সালে রামগঞ্জের ভাটরা উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের মাধ্যমে রাজনীতিতে হাতেখড়ি তার। ১৯৭১ সালে রামগঞ্জ কলেজ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছিলেন। ১৯৭৩-৭৫ সাল পর্যন্ত রামগঞ্জ থানা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে ছিলেন। ১৯৭৬-২০০৩ সাল পর্যন্ত রামগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্য নির্বাহী কমিটির সদস্যের পদে ছিলেন। ২০০৩ সালে সম্মেলনের মাধ্যমে রামগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন। নানা প্রতিকূলতার মধ্যে ২০১৭ সাল পর্যন্ত সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। বর্তমানে জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতির দায়িত্বে রয়েছেন তিনি। এছাড়াও তিনি আওয়ামী লীগের সমর্থনে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। পরে তিনি জেলা পরিষদের প্রসাশক পদে সততার সাথে দায়িত্ব পালন করায় তাকে বর্তমানেও চেয়ারম্যান নির্বাচিত করা হয়।
জানা গেছে, ২০০১ ও ২০০৮ সালের নির্বাচনে মোঃ মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ শাহজাহানকে নৌকা প্রতিক দেয়া হয়। ২০১৪ সালেও দশম সংসদ নির্বাচনে তাকে নৌকা প্রতিকে মনোনয়ন দেয়া হয়। পরে জাতীয় রাজনৈতিক জোটগত সিদ্ধান্তে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে তিনি নৌকা প্রতিক প্রত্যাহার করে। একই সাথে তরিকত ফ্রেডারেশনের প্রার্থী আব্দুল আওয়ালকে সক্রিয়ভাবে মাঠে থেকে বিজয়ী করেছিলেন।
বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ শাহজাহান বলেন, ছাত্রলীগে প্রবেশের মাধ্যমে আমার রাজনীতির জীবন শুরু। সে থেকে ক্রমান্বয়ে সক্রিয়ভাবে দলের বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করেছি। দলের দুর্দিনে বিএনপি-জামায়াত সরকার ও রামগঞ্জের একাধিক সন্ত্রাসী বাহিনীর অত্যাচার-নির্যাতন ও হামলা-মামলা সহ্য করে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের আলগে রেখেছি। দলকে সংগঠিত করে সবসময় চাঙ্গা রেখেছিলাম। দলের এ দীর্ঘ পথ চলা বিবেচনায় জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি পদে যোগ্য বলে আমি মনে করি।

0 মন্তব্যসমূহ