ইউনুছ শিকদার (সুবর্ণচর) নোয়াখালী: দেশীয় মাল্টা চাষে ভাগ্য বদলের পথে সুবর্ণচর উপজেলার কৃষক আফসার উদ্দিনের।স্থানিয়রা জানান, পরিক্ষামূলক ভাবে তিনি লাভের আশায় ঝুঁকি নিয়ে অর্থ ও শ্রম বিনিয়ােগ করে মাল্টা চাষে চমক দেখিয়েছেন। বর্তমানে তাঁর বাগান পরিচর্যার জন্য ৫-৬ জন শ্রমিক কাজ করেন। তাঁর এ দেখাদেখি এলাকার অনেক বেকার যুবক মাল্টাবাগান করে বেকারত্ব দূর করার জন্য আগ্রহ প্রকাশ করছে। প্রতিনিয়ত তার এ বাগান দেখতে দূর দূরান্ত থেকে মানুষ ভিট করছে এবং সু-পরামর্শ নিচ্ছে।
বাগানে সারিবদ্ধ মাল্টার গাছ। প্রতিটি গাছের সবুজ পাতার ফাঁকে ডালে ঝুলে রয়েছে মাল্টা। ফলের ভারে নুয়ে পড়েছে গাছের ডালপালা। এটি নোয়াখালী সুবর্ণচর উপজেলার চরজব্বর ইউনিয়নের জাহাজ মারা বল্কের শিক্ষিত উদ্যোক্তা মো. আফছার উদ্দিনের মাল্টা বাগানের দৃশ্য। মাল্টা চাষ করে সে এখন সফল ও স্বাবলম্বী হয়েছেন। তার মাল্টা বাগান বেশ চোখে পড়ার মত।
কৃষক মোঃ আফসার উদ্দিন জানান, কৃষি অফিসের পরামর্শে পরিক্ষামূলক ভাবে ৮০ শতাংশ জমিতে মাল্ট চাষ করি। এ চারা গুলো চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার নার্সারিতে গিয়ে সরাসরি সংগ্রহ করি। এবং প্রতিটি চারা ৩০০ টাকা করে ৫০০ টি চারা ক্রয় করি। চারা গুলো রোপণের ২৪-২৫ মাস পর ফল দেওয়া শুরু করেছে। সঠিক সময়ে পরিচর্যা করায় ৪-৫ টি মাল্টা হয় ১কেজি। চলতি মাসে ১৫-২০ মন মাল্টা খুচরা ও পাইকারি বিক্রি সম্পন্ন করি। গাছে এখনও কাঁচা-পাঁকা ১০-১২ মন মাল্টা ঝুলছে। এভাবে ১৫-২০ বছর পর্যন্তু ফল দিতে থাকবে। তবে খরচের তুলনায় আশাকরছি ব্যাপক লাভবান হবো। এবং আমার এই মাল্ট চাষ অনেকে দেখতে এসে পরামর্শ নিয়ে যাচ্ছে। এ মাল্ট চাষে অন্যান্য কৃষকসহ অনেক শিক্ষিত বেকাররাও ঝুঁকছে।
শিমুল নামে এক ক্রেতা জানান, বাজারের হলুদ মাল্টার চেয়ে এ দেশীয় সবুজ মাল্টা খেতে বেশ রসালো ও খুবই মিষ্টি। হলুদ মাল্টা প্রতি কেজি বাজারে বিক্রি হয় ২০০-২২০ টাকা। আর এই কেমিক্যাল মুক্ত দেশীয় মাল্টা সরাসরি মাঠ পর্যায়ে কিনা যায় ১০০-১২০ টাকা। তাই বাজারের হলুদ মাল্টার চেয়ে দেশীয় মাল্টার দাম সাশ্রয় এবং মানেও ভালো হওয়ায় সকলে ক্রয় করছেন। এবং চাষ নিয়ে ক্রেতা ও শিক্ষিত যুবকরা উদ্বুদ্ধ হচ্ছে। এবং নতুন করে ব্যাপক হারে চাষাবাদ করার স্বপ্ন দেখছেন এ উপজেলার চাষিরা। এছাড়াও খেতে সুস্বাদু মাল্টা চাষের আগ্রহের কথা জানিয়েছেন আরও অনেকে।
উপজেলার উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোঃ মনিরুল ইসলাম জানান, কৃষি অফিসের নির্দেশনায় প্রথমে বারি মাল্ট-১ জাত নির্বাচন করি। এ মাল্টা চাষে অন্যান্য কৃষকের চেয়ে জাহাজ মারা বল্কের কৃষক মোঃ আফসার উদ্দিন অন্যতম। আমরা তাকে সুষম সার ব্যবহার, আগাছা দমন'সহ বিভিন্ন প্রযুক্তি বিষয়ে প্রতিনিয়ত পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি।
সুবর্ণচর উপজেলা কৃষি অফিসার মোঃ হারুন অর রশিদ জানান, সমগ্র উপজেলায় পরিক্ষামূলক ভাবে বারি মাল্টা-১ জাতের ৫০ শতক ২২টি প্রদর্শনী ও ১ একর ৪টি প্রদর্শনী দেওয়া হয়। এছাড়াও নিজস্ব মালিকা বাড়ির আঙ্গিনায় ৮০ শতাংশ জায়গায় মাল্টার আবাদ করে কৃষক মো. আফছার উদ্দিন। এর মধ্যে সে অন্যতম একজন। চলতি মাসে সে অনেক টাকার মাল্টা বিক্রি করেছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এখনও গাছে ব্যাপক ফল ঝুলছে। তবে কৃষি অফিস থেকে তাদেরকে বিভিন্ন সহযোগীতা'সহ সার্বক্ষণিক মনিটরিং করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, তার এ দেখাদেখি অন্যান্য কৃষকরা মাল্টা চাষে ঝুঁকছে। এবং আগামীতে সুবর্ণচরের মাল্টা নোয়াখালী জেলা'সহ দেশের বিভিন্ন জেলার বড় বড় শহরে বিক্রি হবে। এছাড়াও গাছের ডাল দিন দিন বৃদ্ধি হওয়ায় তিনি চাইলে প্রতি বছর ফল ছাড়াও শুধু মাত্র গাছের কলম বিক্রি করে বেশ টাকা উপার্জন করতে পারবে।

0 মন্তব্যসমূহ