লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি: লক্ষ্মীপুরে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে আহছান উল্যা (৫৫) নামে ব্যবসায়ীকে হত্যার ঘটনায় সাত জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের রায় দিয়েছে আদালত। 

বৃহস্পতিবার (১৬ জুন) বেলা ১১ টার দিকে জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. রহিবুল ইসলাম এ রায় প্রদান করেন। জজ আদালতের সরকারী কৌঁশুলী (পিপি) অ্যাডভোকেট জসিম উদ্দিন রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। 

তিনি জানান, চাঞ্চল্যকর এ হত্যা মামলায় চার্জশিটভূক্ত সাত আসমীকেই যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডের রায় প্রদান করেছে আদালত। একই সাথে ১০ হাজার টাকা জরিমানা ও অনাদায়ে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের রায় দেওয়া হয়। 

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন, মুরাদ (৩৯), মো. জাকির হোসেন (২৮), মো. রিপন (৩৫), নিশান (৩১), মো. সুমন (৩৭), মো. কামাল (৩২) ও মো. আলমগীর হোসেন (৪৬)। এদের মধ্যে আসামী সুমন রায় প্রদানের সময় আদালতে উপস্থিত ছিল। আদালত তাকে কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দেন। অন্যরা পলাতক রয়েছে। দণ্ডিতরা লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার বশিকপুর ইউনিয়নের নন্দীগ্রামের বাসিন্দা। 

ভিকটিম আহছান উল্যা একই গ্রামের আব্দুর রহমান কবিরাজ বাড়ির বাসিন্দা। তিনি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের কর্মী ছিলেন। ২০১৪ সালের ২৬ জুলাই ভোররাতে তিনি হত্যাকাণ্ডের শিকার হন। 

মামলার বাদি নিহত আহছান উল্যার ছেলে মো. আলম (৩১)। তিনি ২০১৪ সালের ২৬ জুলাই লক্ষ্মীপুর সদর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। এতে অজ্ঞাতনামাদের আসামী করা হয়েছে। ওইদিন ভোররাতে অজ্ঞাত সন্ত্রাসীরা তার বাবাকে কুপিয়ে এবং গুলি করে হত্যা করে। 

এজাহার সূত্র জানায়, আহছান উল্যা সদর উপজেলার বশিকপুরের পোদ্দারবাজারে কাঁঠালের ব্যবসা করতেন। রাত পৌনে ৩ টার দিকে বাজার থেকে বাড়ি যাবার পথিমধ্যে যোগী বাড়ির সামনের রাস্তার উপর হত্যাকারীরা তার গতিরোধ করে তাকে কুপিয়ে এবং গুলি করে পালিয়ে যায়। পরিবারের লোকজন তাকে উদ্ধার করে পোদ্দারবাজারের ভাই ভাই হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করে। পরে পুলিশ গিয়ে তার মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতালে প্রেরণ করে। 

ঘটনার পর এ হত্যা মামলাটি তদন্ত করে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের উপপরিদর্শক আবুল বাসার। ঘটনাস্থলে হত্যাকারীদের ফেলে যাওয়া একটি মোবাইল ফোনের সূত্র এবং গোপন তদন্তের ভিত্তিতে তিনি হত্যার রহস্য উদঘাটনের সক্ষম হন। তিনি ঘটনার সাথে সম্পৃক্ত কামালকে গ্রেফতার করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে ঘটনার সাথে সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় আদালতে জবানবন্দি দেয়। পরবর্তীতে এ ঘটনায় আলমগীর হোসেনকে গ্রেফতার করলে সেও ঘটনা স্বীকার করে জবানবন্দি দেয়। তাদের জবানবন্দিতে অন্য আসামীদের নামও বের হয়ে আসে। 

মামলার এক বছরের মাথায় ২০১৫ সালের ২৬ জুন দণ্ডপ্রাপ্ত ওই সাতজনকে অভিযুক্ত করে চূড়ান্ত প্রতিবদন দাখিল করে গোয়েন্দা পুলিশ। 

তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, অভিযুক্ত আসামী আলমগীর হোসেনের সাথে নিহত আহছান উল্যার সাথে জমি নিয়ে বিরোধ থাকায় তাকে হত্যা করা হয়েছে। 

আদালত ১৪ জন স্বাক্ষীর স্বাক্ষ্য গ্রহণ করেন। দীর্ঘ ৮ বছর পর আদালত স্বাক্ষ্য প্রমানের ভিত্তিতে এ হত্যা মামলার রায় প্রদান করেন।