ইউনুছ শিকদার, হাতিয়া ঘুরে: নোয়াখালীর হাতিয়ার চানন্দি ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের প্রচারণাকালে আওয়ামী লীগ (নৌকা প্রতীক) ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর (ঢোল প্রতীক) সমর্থকদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের আটজন সমর্থক আহত হয়েছেন। এ সময় একটি প্রচারমাইক ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।
রোববার বিকেল সাড়ে চারটার দিকে স্থানীয় থানারহাট বাজারে এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে নিকটবর্তী মোরশেদ বাজার তদন্তকেন্দ্রের পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
পুলিশ ও স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বিকেল সাড়ে চারটার দিকে নির্বাচনী প্রচারণার একপর্যায়ে নৌকা ও ঢোল প্রতীকের সমর্থকদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষ শুরু হয়। এ সময় উভয় পক্ষ ইটপাটকেল নিক্ষেপ এবং লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলা চালায়। এতে উভয় পক্ষের কমপক্ষে আটজন আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে পাঁচজনের পরিচয় জানা গেছে। তাঁরা হলেন মনির হোসেন, আলমগীর হোসেন, আবুল কাশেম, মো. চৌধুরী ও নিরঞ্জন দাশ। তাঁদের স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
স্বতন্ত্র প্রার্থী আমিরুল ইসলাম ওরফে শামীম অভিযোগ করেন, বিকেল সাড়ে চারটার দিকে তাঁর সমর্থকেরা থানারহাট বাজারে নির্বাচনী প্রচারণায় বের হন। একপর্যায়ে আওয়ামী লীগের প্রার্থী আজাহার উদ্দিনের সমর্থকেরা অতর্কিতে তাঁদের প্রচারণায় হামলা চালান। এ সময় তাঁরা একটি প্রচারমাইক ভাঙচুর করেন। হামলায় তাঁদের কমপক্ষে পাঁচজন কর্মী আহত হয়েছেন। এ ঘটনার প্রতিবাদে তাঁর সমর্থকেরা বাজারে প্রায় এক ঘণ্টা অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন।
এদিকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী আজাহার উদ্দিন প্রতিপক্ষের প্রচারণায় হামলা ও প্রচারমাইক ভাঙচুরের অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, বিকেলে তিনি তাঁর সমর্থকদের নিয়ে পাশের গ্রামে উঠান বৈঠক করেন। থানার হাটের হামলার ঘটনা সম্পর্কে তিনি কিছুই জানেন না। প্রতিপক্ষের প্রার্থীর লোকজন মিথ্যা অপপ্রচার চালাচ্ছেন।
ঘটনাস্থল পরিদর্শনকারী মোরশেদ বাজার তদন্তকেন্দ্রের ইনচার্জ পরিদর্শক হেলাল উদ্দিন বলেন, নির্বাচনী প্রচারণাকালে নৌকা ও ঢোল প্রতীকের সমর্থকেরা পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও মারামারিতে লিপ্ত হন। খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে দুই পক্ষকে দুই দিকে সরিয়ে দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।

0 মন্তব্যসমূহ