ইউনুছ শিকদার (সুবর্ণচর) নোয়াখালী: হাজার হাজার ভুমিহীন ভিটেমাটি হারা অথচ স্থানীয় চেয়ারম্যান প্রভাব বিস্তার করে ভোগ দখল করছে প্রায় ৮০০ একর জমি।দীর্ঘ আন্দোলনের পর টনক নডেছে প্রশাসনের। সরকারী জমি দখলের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় সুবর্ণচর উপজেলার মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান মহি উদ্দিন চৌধুরীকে (শোকজ) কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৪ মার্চ) চেয়ারম্যানকে শোকজ নোটিশ পাঠানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সুবর্ণচর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আরিফুর রহমান।
স্থানীয় সরকার বিভাগের নোয়াখালীর উপ-পরিচালক মোহাম্মদ আবু ইউসুফ স্বাক্ষরিত ওই নোটিশে বলা হয়, সুবর্ণচর উপজেলার ৮ নম্বর মোহাম্মদপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মহি উদ্দিন চৌধুরী ৩০৬ নম্বর উরির চর মৌজা ও ২৬৬ নম্বর চর লক্ষ্মী মৌজার সরকারি ১ নম্বর খাস খতিয়ানভুক্ত ভূমি জবর দখল করেন। পরে তিনি বিভিন্ন ব্যক্তিগণকে অবৈধভাবে তা লিজ প্রদান করেন। এ বিষয়ে উল্লেখপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সহকারী কমিশনারকে (ভূমি) নির্দেশ দেওয়া হয়।
শোকজ নোটিশে আরও বলা হয়, সরেজমিনে তদন্ত শেষে কমিশনার প্রতিবেদন দাখিল করেছেন। ওই ভূমিতে ‘দেশরত্ন শেখ হাসিনা সমুদ্র বিজ্ঞান ও সামুদ্রিক সম্পদ ব্যবস্থাপনা ইনস্টিটিউট’ স্থাপনের জন্য ইতোমধ্যে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। এই ভূমিতে মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগে রিট পিটিশন মামলা নং ৫১৯৪/২০০৪ ও ৪৬৩০/২০১০ বিচারাধীন থাকা অবস্থায় এ ধরনের কার্যকলাপ স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন, ২০০৯ এর ধারা ২৮(৮)(ঘ) অনুযায়ী অসদাচরণ ও ক্ষমতার অপব্যবহারের শামিল হওয়ায় চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে আইন মোতাবেক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য স্থানীয় সরকার বিভাগে কেন প্রস্তাব করা হবে না নোটিশে জানতে চাওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে নোটিশ প্রাপ্তির সাত কার্যদিবসের মধ্যে এর ব্যাখ্যা প্রদানের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হয়।
এদিকে, সরকারি খাস জমি অবৈধ দখল করে তা লিজ দেওয়ার বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত ইউপি চেয়ারম্যান মহি উদ্দিনের ব্যবহৃত মুঠোফোন নম্বরে একাধিকবার কল করেও তাকে পাওয়া যায়নি। তবে তার ইউপি সচিব জানিয়েছেন, চেয়ারম্যান অসুস্থতার কারণে ঢাকা গিয়েছেন।
অন্যদিকে শোকজ নোটিশের বিষয়ে সুবর্ণচর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আরিফুর রহমান জানান, সরেজমিনে তদন্ত করে চেয়ারম্যান মহি উদ্দিনের বিরুদ্ধে সরকারি ভূমি দখলের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। ওই প্রতিবেদনের পর তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান করা হয়েছে। তার দখলকৃত জমির পরিমাণ প্রায় ৮০০ শত একর।
বিষয়টিতে স্থানীয় সরকার বিভাগের নোয়াখালীর উপ-পরিচালক মোহাম্মদ আবু ইউসুফ বলেন, সরকারি ভূমি দখলের বিষয়ে অভিযুক্ত চেয়ারম্যানকে একটি নোটিশ দেওয়া হয়েছে। নোটিশ গ্রহণের সাত দিনের মধ্যে তাকে ব্যাখ্যা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

0 মন্তব্যসমূহ