ইউনুছ শিকদার, নোয়াখালী: নোয়াখালীর সুবর্ণচরে হাতেম শিক্ষা ,স্বাস্থ্য ও সাহায্য ট্রাস্ট-এর সম্পত্তি দখলের অভিযোগ উঠেছে একদল ভূমি দস্যুদের বিরুদ্ধে। এক সময়ে ট্রাস্টের জমি চাষাবাদের জন্য বর্গা রেখে সময়ের ব্যাবধানের মালিকানা দাবী করা এ ভূমি দস্যুদের নেশায় পরিনত হয়েছে। এ কাজে সহযোগী রয়েছে একদল রাজনৈতি প্রভাবশালী। জোট কিংবা মহাজোট সব দলেই নিজেদের অবস্থান করে ভূমি দখল করতে করতে মাফিয়া বনে গেছেন তারা।
নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলার চরবজলুল করীম গ্রামের হাতেম শিক্ষা ,স্বাস্থ্য ও সাহায্য ট্রাস্ট-এর সম্পত্তি দখলের অভিযোগে সরেজমিনে গিয়ে ভূমি মাফিয়াদের এমন কর্মকান্ডের চিত্র উঠে আসে দৈনিক আমার সংবাদ প্রতিবেদকের হাতে। জানাগেছে প্রায় ৩৫ বছর আগে প্রবাসী মোহাম্মদ হাতেম আলী চট্রগ্রামের সন্দ্বীপ থেকে এসে সুবর্ণচরের জেগে উঠা নতুন চরে প্রচুর পরিমান সম্পত্তি ক্রয় করে। প্রথমে চাষাবাদ করলেও প্রবাসে নাগরিকত্ব নিয়ে সেখানে পরিবার পরিজন নিয়ে বসবাস করায় , পারিবারিক সিদ্ধান্তে একটি ট্রাস্ট গঠন করে এ জনগোষ্ঠীর শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সাহায্যে ২৩.৮৩ একর সম্পত্তি ট্রাস্টকে দান করেন। ট্রাস্টের সম্পত্তি দেখবালের দায়িত্ব দেন পিতা তোফাজ্জল বারীকে । বাবার মৃত্যুর পর প্রবাস থেকে ট্রাস্টের সম্পত্তির নিজেই খোঁজ খবর রাখেন, দেশে হাতেম আলীর সন্তান সন্ততি না থাকায় ভাতুষ্পুত্রদেরকে দেখাশোনার দায়িত্ব দেন।
চাচা হাতেম আলীর মৃত্যুর পর ভাতুষ্পুত্র মাহফুজুর রহমান সমুদয় সম্পত্তির চাষাবাদের জন্য বিভিন্ন পরিমানে বর্গা একাধিক বর্গা চাষীর কাছে বর্গা দেন। কয়েক বছর বর্গা চাষীরা জমির ফসল ঠিকঠাক মতো দিলেও গত চার বছর থেকে বর্গার ফসল না দিলে এ নিয়ে চাষীদের সাথে স্থানীয় পর্যায়ে একাধিকবার দেনদরবার করে ট্রাস্টের লোকজন। এক পর্যায়ে বর্গা চাষীরা জমির মালিক দাবী করেন। ট্রাস্টের সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমানদের উপর লাঠিয়াল বাহিনী নিয়ে একাধিকবার হামলা করে বর্গা চাষীরা । স্থানীয় কিছু কুচক্রী মহল জমি দখলের ভাগ বাটোয়ারায় সহযোগী হয়ে বর্গা চাষীদের সাথে একজোট হয়ে মাহফুজুর রহমানদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা করে।
অভিযোগ রয়েছে, হাতেম শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সাহায্য ট্রাস্ট ছাড়াও গ্রামের মানুষদের সহজ সরল পেয়ে ভূমিদস্যু চক্রটি আরো অনেকের জমি নিজেদের দাবী করে আসছে। চক্রটির প্রকাশ্য হোতারা ছাড়াও পর্দার অন্তরালে রয়েছে একটি বিশাল চক্র। ট্রাস্টেও সম্পত্তি ছাড়াও তাদের হামলা-মামলায় জমি এবং বসত ভিটা ছেড়ে নিঃস্ব হয়ে পথে বসেছেন অনেকে। রাজনৈতিক, প্রশাসনিক এবং আইনি ক্ষেতে ভূমি দস্যুদের অবাদ বিচরণ থাকায় গ্রামের লোকজন সঠিক বিচার পাই না।
রবিউল হোসেন নামে একই এলাকার আরেক বাসিন্দার অভিযোগ, তাদের ঘরভিটার জাল দলিল করে চক্রটি তাদের সম্পত্তি দাবি করে ঘর ছাড়া করতে প্রতিনিয়ত লাঠিয়াল বাহিনী দিয়ে হামলা করছে। এমতাবস্থায় মৃত্যুর হুমকির মুখে রয়েছে রবিউলের পরিবার। হাতেম শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সাহায্য ট্রাস্ট কিংবা রবিউল নয় ভয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এরকম অনেকে রয়েছে যাদের জমির মালিক দাবী করছে এই ভূমি দস্যু চক্রটি।তবে বিষয়ে চক্রটির কারো সাথে সরাসরি কথা বলা যায়নি। বরং জমি ফেরৎ পেতে কথিত সংবাদ সম্মেলন করেছে মো. হোসেন প্রকাশ আবুল হোসেন।
এমতাস্থায় উপজেজলা প্রশাসন, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, স্থানীয় সংসদ সদস্য ও মাননীয় প্রধান মন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করছেন হাতেম শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সাহায্য ট্রাস্ট এর লোকজন। তাদের দাবী অননুন্নত এ জনগোষ্ঠির শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সাহায্যে এগিয়ে আসতে ট্রাস্টের সম্পত্তি ট্রাস্টকে ফিরিয়ে দেয়া হোক। আইনের আওতায় আনা হোক চিহ্নিত ভূমি দস্যুদের।
জানতে চাইলে এবিষয়ে উপজেলা প্রশাসন জানান, তারা অবগত থাকলেও আদালতে মামলা বিচারাধীন থাকায় উপজেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ সম্ভব নহে বলে জানিয়েছেন উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি মো. আরিফুর রহমান। একাধিক মামলা এবং ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন চরজব্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জিয়াউল হক খন্দকার। ওসি জানান, মামলার বিষয়ে আদলতের রায় বাস্তবায়নে কাজ করবে পুলিশ। তবে এখনো পর্যন্ত কোন রায় তাদের কাছে আসেনি বলে জানান তিনি।

0 মন্তব্যসমূহ