ইউনুছ শিকদার, নোয়াখালী জেলা প্রতিনিধি: নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়াতে রবীন্দ্র চন্দ্র দাস (৪২) নামের এক ইউপি সদস্যকে কুপিয়ে ও হাত-পায়ের রগ কেটে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।
বুধবার দিবাগত রাত পৌনে ২টার দিকে উপজেলার চর ঈশ্বর ইউনিয়নের নন্দ রোডে এই ঘটনা ঘটে। তিনি চর ঈশ্বর ইউনিয়নের ৩নম্বর ওয়ার্ডের বর্তমান ইউপি সদস্য ও উপজেলা আ’লীগের সদস্য ও উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের সহ-সভাপতি ছিলেন এবং একই এলাকার তালুকদার গ্রামের সতিশ মহাজনের ছেলে।
স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, স্থানীয়ভাবে রাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধের জের ধরে তাঁকে হত্যা করা হয়েছে। তবে পুলিশ তাৎক্ষণিক এ হত্যাকান্ডের কোন কারণ জানাতে পারেনি।
নিহতের ভগ্নিপতি নৃত্য লাল দাস ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ইউপি সদস্য রবীন্দ্র চর ঈশ্বর ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের বর্তমান ইউপি সদস্য। আসন্ন ইউপি নির্বাচনেও তিনি প্রার্থী হয়েছেন। আগামী (২১ জুন) ওই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। স্থানীয় বাংলাবাজারে ক্লোস্টোরে মাছের ব্যবসা করতেন। বুধবার দিবাগত রাত পৌনে ২টার দিকে তিনি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে উপজেলা শ্রমিকলীগের সভাপতি আল আমিনসহ মোটরসাইকেল যোগে হাতিয়া পৌরসভার ওছখালী এলাকার মাস্টার পাড়ায় তার বাসায় যাচ্ছিলেন। যাত্রা পথে তাদের মোটরসাইকেলটি চরঈশ্বর প্রধান সড়কের খাসেরহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন নন্দ রোডে পৌঁছলে একদল দূর্বৃত্ত তাদের লক্ষ্য কর কয়েক রাউন্ড গুলি ছুঁড়ে তাদের গতিরোধ করে। এসময় মোটরসাইকেলের পিছনে থাকা আল আমিন দৌঁড়ে পালিয়ে গেলেও হামলাকারীদের হাতে আটকা পড়ে রবীন্দ্র। হামলাকারীরা প্রথমে রবীন্দ্রকে গুলি ও পরে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করে এবং তার হাতের কব্জি ও পায়ের রগ কেটে ফেলে যায়। পরে একদল টহল পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে রবীন্দ্রকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে রাত ৩টার দিকে তার মৃত্যু হয়। তবে জানা যায়,তিনি প্রভাষক আশ্রাফ হত্যাকান্ডের অন্যতম সন্দেহভাজন ব্যক্তি।
হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল খায়ের ইউপি সদস্যকে কুপিয়ে হত্যার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।তবে তিনি গুলির অভিযোগ নাকচ করে দিয়েছেন এবং তাৎক্ষণিক এ হত্যাকান্ডের কোন কারণ জানাতে পারেননি। তিনি আরো জানান, মরদেহ উদ্ধার করে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

0 মন্তব্যসমূহ