ইউনুছ শিকদার, নোয়াখালী প্রতিনিধিঃ সুবর্ণচর উপজেলার চর ওয়াপদা ইউনিয়নের দরবেশের হাটে পথচারীকে মেরে রক্তাক্ত অবস্থায় রাস্তার পাশে ফেলে দেয় সন্ত্রাসীরা। ঘটনাটি ঘটে সুবর্ণচর উপজেলার ০৪নং চরওয়াপদা ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের চর কাজি মোখলেছ গ্রামের দরবেশের হাটে।

জানা যায়, তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সফি নেতার ছেলে ইসমাঈল হোসেনকে স্থানীয় সন্ত্রাসীরা বাজারের উপরে অতর্কিত লাঠি সোটা, দেশীয় অস্ত্র ও ইট দিয়ে বেধম আঘাত করে। এই হামলা প্রায় ঘন্টা খানেক চলেছিল, যারাই বাধা দিতে আসছে তারাই হামলার শিকার হয়েছে। এমনকি ইসমাঈলের স্ত্রী ঘটনা শুনার পর ছুঁটে আসলে তাকেও যৌন হয়রানীসহ মাইর ধইর করা হয়। এদিকে আহত ইসমাঈলের অবস্থা আশংকাজনক হওয়ায় সন্ত্রাসীরা তাকে দ্রুত রাস্তার পাশে ফেলে আসে।

এলাকাবাসী আহতদের উদ্ধার করে সুবর্ণচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে (করোনার কারনে লকডাউন করায়) পাশবর্তী ক্লীনিক থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে দ্রুত নোয়াখালী সদর হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। 

আহত ইসমাঈলের ভাই মাইন উদ্দিন অভিযোগ করে বলেন, আমরা নিতান্তই নিরীহ, এই এলাকায় সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালিয়ে বেডাচ্ছে ওবায়দুল হক অধুর সন্ত্রাসী ছেলেরা। চিহ্নিত ও দাগি সন্ত্রাসী কোবা কামালের নেতৃত্বে এলাকায়,চাঁদাবাজি, খুন,ঘুম,ধর্ষণ, চুরি, ডাকাতিসহ রাহাজানি চলে। সে আরও বলে, আজু মেম্বারের সন্ত্রাসী পুত্র ২টি খুনের মামলা ও একাধিক মামলার আসামী বাবুল, কামাল, শাহেদসহ স্থানীয় সন্ত্রাসীরা আমাদের পরিবার এবং নিরীহ মানুষের ওপর বর্বর হামলা চালায়। এই সন্ত্রাসী বাবুল গ্রুপের সাথে যোগ দেয় ওবায়দুল হক অধুর ছেলে কোবা কামাল, কোবা জামাল, কোবা সেলিম ও কোবা বেলাল গ্রুপের ভয়ে এলাকায় কেউ তাদের সন্ত্রাসী কার্যক্রমের বিরুদ্ধে কথা বলতে সাহস করে না। কেউই কথা বললেই তাকে হতে হয় হেনস্থা বা এলাকা ছাড়া। তাদের ভয়ে একাধিক মানুষ এখন এলাকা ছাড়া। চরজব্বার থানায় একাধিক এজাহার দায়ের করা হয়েছে। এসব সন্ত্রাসীরা আইনের শাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখায় এবং গ্রেফতারের পর আইনের ফাঁক ফোকর দিয়ে বেরিয়ে এসে আবার এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েক করে। কোবা কামাল ৭/৮ বছর পূর্বে খুনের আসামী হয়ে পাড়ি জমায় বিদেশে। ইতিপূর্বে দেশে এসে পূর্ণরায় চালাচ্ছে সন্ত্রাসী কার্যক্রম। এলাকাবাসী এই হামলার সুষ্ঠু তদন্ত করে অভিযুক্তদের দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তি দাবী করছে। 

এলাকাবাসী বলেন, বর্তমানে চর ওয়াপদা ইউনিয়নের ০৬ নং বাবুল-কামালগঙ্গরা দীর্ঘদিন ধরে তাদের সাঙ্গপাঙ্গ নিয়ে এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে আসছে। ইতিপূর্বে ইভটিজিং ও অপহরণ মামলায় জেলে গিয়ে কৌশলে জামিনে এসেছে বাবুল। কোবা কামাল ও বাবুলের বিরুদ্ধে ২টি খুনের মামলা সহ একাধিক মামলা রয়েছে, জিআর মামলা নং ৫৬০/২০১৭(খুনের মামলা), জিআর ৩৬/২০১৯ (হত্যার উদ্যেশ্য হামলা) এবং সিআর১৮১/২০১৩ মামলা রয়েছে। এমনকি আপন ভগ্নিপতিকেও হত্যার অভিযোগ বাবুলের বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে।

এছাড়াও এলাকায় মদ, গাঁজা ও ইয়াবা সেবন ও মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত এই সন্ত্রাসী গ্রুপ। প্রতিবেদক বর্তমান আজু মেম্বারের সাথে মুঠো ফোনে আলাপ কালে তিনি বলেন, এসব মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্য প্রণোদিত। আমাকে সমাজে ছোট করতে প্রতিপক্ষের কৌশল মাত্র।

৪নং চরওয়াপদা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মনির আহমেদ বলেন, আজু মেম্বারের ছেলে বাবুলের বিরুদ্ধে তার ভগ্নীপতিকে খুনের অভিযোগে একটি হত্যা মামলাসহ ৩/৪ টি মামলা রয়েছে, এরা কেউ বিচার শালিস মানেনা, এধরনের মারধরের বিষয়ে একাধিকবার থানায় বিচার শালিস হয়েছে। 

চরজব্বার থানার ওসি বলেন, ভুক্তভোগিরা থানায় এসেছে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে। 

ভুক্তভোগি ইসমাঈল, মাঈন উদ্দিন, হাছিনা বেগম বর্তমানে অনিরাপত্তায় দিনাতিপাত করছেন এবং প্রাণহানীর আশংকা করছেন। ভুক্তভোগীরা ও শান্তিপ্রিয় এলাকাবাসী এই ন্যাক্কারজনক সন্ত্রাসী হামলার উপযুক্ত বিচারের দাবীতে নোয়াখালী জেলা পুলিশ সুপার, জেলা প্রশাসক ও চরজব্বার থানার ওসি জিয়াউল হক তরিক খন্দকারসহ সংশ্লিষ্ঠ প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন।