গাংচিল অনলাইন.কমঃ স্বাধীন বাংলাদেশের ৫০ বছরে বাঁশ-কাঠের সাঁকোই ছিলো বিশ হাজারের বেশি মানুষের চলাচলের একমাত্র ভরসা। সাঁকোটির স্থলে ব্রিজ নির্মাণের প্রতিশ্রুতি আর আশ্বাস দিয়েছেন অনেক জনপ্রতিনিধি। অবশেষে নোয়াখালী পৌরসভা আইয়ুবপুর-সাহাপুর গ্রামের নোয়াখালী খালের উপর বাঁশ-কাঠের সাঁকো সরিয়ে হচ্ছে স্বপ্নের ব্রিজ।
অবশেষে স্থানীয় কাউন্সিলর জাহিদুর রহমান শামীমের আন্তরিক প্রচেষ্টায় ব্রিজটি নির্মাণের উদ্যোগ নেয় নোয়াখালী পৌরসভা।
পৌরসভার আইয়ুবপুরের বাসিন্দা মালেক মিয়া, ওমর ফারুক ও জামাল উদ্দিন বলেন, নোয়াখালী পৌরসভায় নানান উন্নয়ন হলেও দীর্ঘ ৫০ বছর ধরে পাঁচ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডের প্রায় বিশ হাজার মানুষের দুর্ভোগ ছিল চরমে। পাথরঘাটা খালের উপর একটি পাকা ব্রিজ না থাকায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাঠ-বাঁশের সাঁকো দিয়েই চলাচল করতে হয়েছে বছরের পর বছর। এই ব্রিজ নির্মানের জন্য বহুবার সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে তদবির করতে হয়েছে। এর আগে নানা সময় ব্রিজটি নির্মাণের প্রতিশ্রুতি আর আশ্বাস দিয়েছেন অনেক জনপ্রতিনিধি। কিন্তু ব্রিজটি নির্মাণ হয়নি! সর্বশেষ স্থানীয় কাউন্সিলর জাহিদুর রহমান শামীমের আন্তরিক প্রচেষ্টায় ব্রিজটি নির্মাণের উদ্যোগ নেয় নোয়াখালী পৌরসভা। কথা রাখলেন কাউন্সিলর জাহিদুর রহমান শামীম। তিনি নির্বাচনের সময় বলেছিলেন আমি নির্বাচিত হলে আমি এই ব্রিজ টা করার আপ্রাণ চেষ্টা করব। তিনি তার কথা রেখেছেন , তাই তার নির্বাচনী এলাকার জনগণ খুশি।
অবশেষে সেই পাথরঘাটা ব্রিজ নির্মাণ কাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হলো। গত সোমবার দুপুরে নোয়াখালী পৌর মেয়র শহিদ উল্যাহ খান পৌরসভার ছয় নম্বর ওয়ার্ডে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের মধ্য দিয়ে পাথরঘাটা ব্রিজ নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেন।
ব্র্রিজটির কাজ হলে অর্ধশত বছরের দুর্ভোগ নিরসন হবে। এলাকাবাসী জানান, স্বাধীনতার পর থেকে পৌরসভার ছয় নম্বর ও পাঁচ নম্বর ওয়ার্ডের অন্তত বিশ হাজার মানুষ দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। কখনও কাউন্সিলরের উদ্যোগে আবার কখনো স্থানীয়দের উদ্যোগে খালের উপর সাঁকো হলেও ব্রিজ নির্মাণ করা হয়নি কখনোই। স্বাধীনতার অর্ধশত বছর পরে হলেও ব্রিজ নির্মাণ কাজ শুরু হওয়ায় আনন্দিত তারা।
উদ্বোধনের আগে স্থানীয়দের উদ্যোগে এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন পৌর মেয়র শহিদ উল্যাহ খান সোহেল।
এবিষয়ে ওয়ার্ড কাউন্সিলর জাহিদুর রহমান শামীম বলেন, পাঁচ বছর আগে আমি যখন ভোট চাইতে যাই তখন সকলের একটাই দাবি ছিল পাকা ব্রিজের। আমি তখন ওয়াদা করেছিলাম, নির্বাচিত হলে এটি করে দিব। দীর্ঘদিন পরে হলেও এ ব্রিজের নির্মাণ কাজের উদ্বোধন হওয়াতে আমার দেয়া ওয়াদা পালন করতে পারছি। ইতিমধ্যেই সাহাপুর এবং আইউবপুরে বিদ্যুতের খুঁটি স্হাপনের কাজ শুরু হয়েছে, যা ছিল আমার নির্বাচনের আরো একটি প্রতিশ্রুতি।
আমি নির্দ্ধিধায় বলতে পারি, আমি একজন ব্যর্থ মানুষ। আপনারা যেই আশা নিয়ে আমাকে নির্বাচিত করেছেন, সেই আশার প্রতিফলন আমি বাস্তবে দেখাতে পারিনি। আমার কোন সফলতা নাই । উন্নয়ন যা হয়েছে তা শুধুই আপনাদের সহযোগিতা এবং দোয়াই হয়েছে। আমি চাই আমার এই ক্ষুদ্র অভিজ্ঞতা এবং স্বল্প যোগ্যতা নিয়ে আপনাদের সাথে আগামীতেও পথ চলতে। চাই আপনাদেরই একজন হয়ে থাকতে।
নোয়াখালী পৌরসভার মেয়র শহীদ উল্যাহ খান বলেন, গত পাঁচ বছরে নাগরিকদের সেবা নিশ্চিত করতে আমি গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন কাজ করেছি। এখন আমার প্রতিশ্রুতির আওতায় তেমন কোন কাজ বাকি নেই। বহুবছর আটকে থাকা পাথরঘাটা ব্রিজেরও নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করা হলো।
পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, ৪২ মিটার দীর্ঘ এ ব্রিজের নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে তিন কোটি ১৭ লাখ টাকা। আগামী এক বছরের মধ্যে ব্রিজের নির্মাণ কাজ শেষ হবে।

0 মন্তব্যসমূহ