ইউনুছ শিকদারঃ নোয়াখালী কোম্পানীগঞ্জের কৃতি সন্তান আজগর আলী শামিম ফেনীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক হিসেবে পদন্নতি পেয়েছেন।

গত সোমবার (১৪ ডিসেম্বর) রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব শেখ রাসেল হাসান স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এ আদেশ জারি করা হয়।

জানা যায়, আজগর আলী শামিম কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার রামপুর ইউনিয়নের এক মধ্যবিত্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহন করেন। তার পিতার নাম মোহাম্মদ এরফান আলী এবং মাতা খাদিজা আক্তার। 


ছোটবেলা থেকেই আজগর আলী পড়া লেখায় মেধার সফলতা রেখে আসছেন। তিনি ৫ম শ্রেণিতে সাধারণ গ্রেডে এবং ৮ম শ্রেণিতে টেলেন্টপুলে বৃত্তি লাভ করেন। ২০০০ সালে বামনী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি এবং ২০০২ সালে বামনী কলেজ থেকে এইচএসসি পরিক্ষায় কৃতিত্বের সহিত উত্তীর্ণ হন। 

এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাজ বিজ্ঞান বিষয়ে ভর্তি হয়ে কৃতিত্বের সহিত বিএসএস (সম্মান) ও এমএসএস ডিগ্রি অর্জন করেন। 

শহীদ সার্জেণ্ট জহুরুল হক হলের আবাসিক ছাত্র হিসেবে মাষ্টার্সে অধ্যয়নরত অবস্থায় ২০০৯ সালে তিনি ২৯তম বিসিএস পরিক্ষায় অংশগ্রহণ করেন এবং প্রথমবারেই প্রশাসন ক্যাডারে সুযোগ পেয়ে ২০১১সালে সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রট হিসেবে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়। 

রাজবাড়িতে প্রথমবারের মতো সরকারি (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে পর্যায়ক্রমে মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ, কুমিল্লার মুরাদনগর এবং চট্টগ্রামের মীরসরাই উপজেলায় সুনামের সহিত দায়িত্ব পালন করেন। 

২০১৬ সালে সিনিয়র সহকারী সচিব হিসেবে পদোন্নতি পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে রাঙ্গামাটি জেলার কাউখালী, লক্ষীপুরের রামগতি, কুমিল্লার হোমনা এবং ব্রাহ্মনবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলায় অত্যন্ত সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন। 

বর্তমানে তিনি সিনিয়র সহাকারী সচিব হিসেবে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় যোগদান করে প্রেষণে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহণ কর্পোরেশন (বিআরটিসি’র) ম্যানেজার (এস্টেট) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। 

এদিকে মো. আজগর আলীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক পদে পদোন্নতির খবরে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক, মুঠোফোনে ক্ষুদে বার্তাসহ সরাসরি ফুলেল শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন।

একজন লেখক হিসেবেও তার যথেষ্ট খ্যাতি রয়েছে। ‘একমুঠো জোসনা’ তার লেখা প্রথম কাব্যগ্রন্থ। ২০১৬ সালের অমর একুশে বই মেলায় ‘শাশ্বত ভালোবাসা’ নামে তার প্রথম উপন্যাস প্রকাশিত হয়। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি আহনাফ শাহরিয়া আরাফ নামক এক পুত্র সন্তানের গর্বিত জনক।