লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধিঃ লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার দালাল বাজারে খোয়া সাগর দিঘিকে পর্যটকদের প্রিয় হয়ে সর্বস্তরের মানুষের নিকট গ্রহন যোগ্য হয়ে উঠেছে। সে থেকে পর্যটকরা এখানে ভিড় জমানো শুরু করে দেয় । ঠিক তেমনি করে পবিত্র ঈদুল আযহাতেও প্রচুর পর্যটকদের সমাগম লক্ষ্য করা যায় । জেলা এবং উপজেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিভিন্ন পর্যটকরা ঘুরতে আসে । পর্যটকরা আসে এই খোয়াসাগর দীঘির পাড়ে বসে একটু ঠান্ডা বাতাস উপভোগ করার জন্য । 

সোমবার (৩ আগষ্ট) বিকেলে খোয়া সাগর দিঘীর পাড়ে অনেক পর্যটকরা আসেন, গণমাধ্যমকর্মীদের এক সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের যুগ্ন সম্পাদক তাহছান বলেন, এখানে ঘুরতে এসে মোটামুটি ভাল লাগছে । লাইটগুলো বিভিন্ন কালারের হলে রাতের বেলায় আরো সুন্দর দেখা যেতো , দিঘীর পাড়ে দোকান ও হোটেল নেই, থাকলে ভালো হতো, এগুলো বাস্তবায়ন করতে কর্তৃপক্ষের বিশেষ নজর দেওয়া উচিৎ বলে মনে করি । অন্যদিকে লক্ষ্মীপুর জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেন শরীফ বলেন, খোয়াসাগর দিঘির পাড়কে সরকার পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে ঘোষণা করেছে । কিন্তুু, এখানে অনেক কিছু এখনো অপরিপূর্ণ রয়ে গেছে , টয়লেট নেই, খাওয়ার কোন সু-ব্যবস্থা নেই ।অন্যদিকে লক্ষ্মীপুর জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক জিয়াউল করিম নিশান বলেন, লক্ষ্মীপুর দালাল বাজার খোয়াসাগর দিঘিকে পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে ঘোষণা করছে সরকার । এখানে ঘুরতে এসে বেশ ভালোই লাগছে, তবে এটিকে আরো আধুনিক ভাবে রুপান্তরিত করতে হবে । 

অন্যদিকে লক্ষ্মীপুর সদর থানা আওয়ামীলীগের প্রচার সম্পাদক হুমায়ুন কবির বিপ্লব বলেন, খোয়াসাগর দিঘির পাড় মনোরম পরিবেশ, তবে এটিকে আরো উন্নত করতে হবে । এখানে যারা স্বপরিবার নিয়ে ঘুরতে আসে তাদের জন্য বেশী বিপদজনক, এবং, মৃত্যুর ফাঁদও বটে, এ পর্যটন কেন্দ্রের দিঘির পাড়ে কোন রেলিং নেই, শিশুরা পানিতে পড়ে যে কোন মুহূর্তে হতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা । তাই সরকার ও জেলা প্রশাসকের প্রতি বিনীত ভাবে অনুরোধ জানায়, যেনো রেলিংটি অতি দ্রুতগতিতে করে দেওয়া হয় । 

ঢাকা হাইকোর্টের এডভোকেট রিয়াজ উদ্দিন বলেন, খোয়াসাগর দিঘিটি অনেক বড় হওয়ার কারণে আমি সরকারের পর্যটন মন্ত্রী ও জেলা প্রশাসকের নিকট আহ্বান করবো এখানে অনেক কিছু এখনো অপূর্ণতা রয়েছে । যেমন দরুন, পর্যটকদের নিরাপত্তা প্রদান করতে পুলিশ মোতায়েন করতে হবে, টয়লেট স্থাপন করা জরুরী , দিঘির চার পাশে রেলিং করা জরুরী । এই বিষয় গুলোর প্রতি সরকারকে নজর দিতে হবে । আর তানা হলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে । 

এই বিষয়ে লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শফিকুর রেদোয়ান আরমান শাকিল এর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, দালাল বাজার খোয়াসাগর দিঘির আশেপাশে পর্যটকদের বসার জন্য, এবং, হাঁটাচলা ও গুরাফেরা করার জন্য একটা ব্যবস্থা করছে সরকার । বাকী কাজগুলো চলমান রয়েছে । অপূর্ণ কাজ গুলো শীগ্রই বাস্তবায়ন করা হবে ।

এই বিষয়ে লক্ষ্মীপুর জেলা প্রশাসক অঞ্জন চন্দ্র পাল এর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, পর্যটন কেন্দ্রের কাজ চলমান আছে, করোনার কারণে আপাতত কাজ বন্ধ রয়েছে, কিছু কাজ এখনো বাকি আছে, রেলিং, টয়লেট, সহ অন্যান্য যে কাজ গুলো আছে সে কাজ গুলো কিছু দিনের ভিতরে সমাপ্ত করা হবে।