ফয়সাল কবির লক্ষ্মীপুরঃ স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শফিউল বারী বাবুর মৃত্যুতে তাকে নিয়ে ফেসবুকে আবেগময় পোস্ট দিয়েছেন জেলা স্বেচ্ছাসেবকদলপর সিনিয়র সহ সভাপতি আবু ছায়েল মোহাম্মদ শাহীন । গত মঙ্গলবার রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। তার বয়স হয়েছিল ৪৯ বছর।
ফেসবুকে দেওয়া আবু ছায়েল মোহাম্মদ শাহীন পোস্টটি হুবহু তুলে ধরা হলো-
স্বপ্ন ভঙ্গের ঈদ
স্বল্প কিছু দিন আগে ২৮ শে জুলাই দীর্ঘ দিনের লালিত স্বপ্নের সমাধি দিয়েছি রামগতির রব রোডের মাথায়,আমজাদিয়া মসজিদের পাশে।আমিতো কোন দিন ভাবিনি যে ভাইয়ের মৃত্যুর মাত্র ৪ দিন পর এমন একটি ঈদ আসবে যা আমাকে কান্নায় আচ্ছাদিত করবে।বিশ্বাস -ই হচ্ছে না যে আমার ফোনে আর কোন দিন রিং বাজবে না , এবং বলবে না শাহীন ঈদ মোবারক।
ইদ মানে আনন্দ,ইদ মানে খুশি....
অথচ আজ আমাদের আনন্দ ও নেই খুশি ও নেই।
ইদের দিন প্রথম নামাজ পড়ে ভাইকে ফোন দিয়ে ইদের শুভেচ্ছা জানাতাম...
কোন কারণে ভাই ফোন না ধরতে পারলে ছটফট করতাম কখন ভাইকে ইদ মোবারক বলব।
জন্মের পর প্রত্যেক সন্তান তার মা বাবা হাজারো কষ্ট করে তার সন্তানকে লালন পালন করেন। আমি আমার মাকে খুব ভালো বাসতাম। আমার রাজনীতির পিছনে আমার মা বাবার উৎসাহ উদ্দীপনা ছিল অনেক বেশি, আমার বাবা আমাকে রাজনীতির মাঠে খুব শিতল ছায়ায় রাখতেন।সেই বাবা মাকে হারিয়ে আপনার পরম ছায়া আমি আমার রাজনীতির অভিভাবক পেয়েছি।
ভাইকে একদিন বললাম,ভাই আপনাকে এতটা ভালোবাসি যে,আপনার জন্য জীবন দিতেও পারি!
আপনি আমার মা বাবা!
২০ টি বছর আপনার সাথে থেকে অনেক কিছু শিখেছি।
কিভাবে একটা মানুষকে সৎ এবং সততা নিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে হয় তার প্রধান শিক্ষক আপনি।
ভাই আপনার তুলনা আপনি নিজেই!
আমি ভালো থাকলে আপনি সবসময় খুব খুশি হতেন।ছাত্রদলের হাবিব উন নবী খান সোহেল ভাই যখন সভাপতি আর মরহুম নাসির উদ্দিন আহমেদ পিন্টু ভাই সাধারণ সম্পাদক, সে কমিটির আপনি আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ছিলেন।
আর আমি ছিলাম অবিভক্ত রামগতি উপজেলা(যা আপনার নিজ উপজেলা)ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক।
তার পর আপনি যখন ঢাকা ইউনিভার্সিটির আহবায়ক এবং তার পর কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক হলেন, আমি তখন অবিভক্ত রামগতি উপজেলার আহবায়ক।
তার পরে আপনি যখন কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক,আমি তখন রামগতি ও কমলনগর উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি।তারপর আপনি যখন কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সভাপতি হন নাই।লক্ষীপুর, রামগতিতে আমারও পদ নাই।
আপনাকে ম্যাডাম কেন্দ্রীয় সেচ্ছাসেবক দলের সেক্রেটারি বানাতে চেয়েছিলেন।যেভাবে হোক আপনি হাবিব উন নবী খান সোহেল ভাই ও মীর সরাফত আলী সফু ভাইয়ের কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক হলেন।আপনি পার্টি অফিসে সেদিন যখন রিজভী ভাই এর কাছে সাক্ষাৎতের জন্য যান তখন আপনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,তোদের জন্য আমার এই পদটা নেওয়া।তখন আমি শ্রদ্ধার সহিত বললাম আপনার সততা আপনাকে অনেক দূর নিবে ইনশাল্লাহ।
হে প্রিয় নেতা আপনি দায়িত্ব নেওয়ার কিছুদিন পর আমাকে লক্ষীপুর জেলা সেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ন আহবায়ক করলেন এবং কিছুদিন পর রামগতি উপজেলার আহবায়ক করলেন।তার পর আপনি যখন কেন্দ্রীয় সেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি হলেন,আমাকে লক্ষীপুর জেলা সেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র সহ সভাপতি করলেন,যা আজও আমি আছি।
হে প্রিয় অভিভাবক,
আপনাকে ছাড়া আজ আমার কিছুই ভালো লাগেনা।২৮ শে জুলাই,রোজ মঙ্গলবার,আপনি হাসপাতালের ভিতরে আর আমরা হাসপাতালের বাহিরে শুধু আল্লাহ কে ডাকছি।বারবার বলছি..হে আল্লাহ,ভাইয়ের সততা আর পরোপকারী কাজের জন্য এবং উনার দুটি নিষ্পাপ শিশু'র উছিলায় নেক হায়াত বাড়িয়ে দেন। রাত পৌনে তিনটার সময় আনোয়ার খান মর্ডান হাসপাতাল থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য এ্যাপোলো হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। আবার সেখানে চলে গেলাম আপনার পিছনে পিছনে।কি এমন ঘটলো সেখানে নেওয়ার পর মাত্র ৪৫ মিনিটের মধ্যে আমাদেরকে শোকের সাগরে ভাসিয়ে অভিভাবকহীন করে শত কষ্ট বুকে নিয়ে চলে গেলেন না ফেরার দেশে।
কি অপরাধ করেছিলাম আমরা এতগুলো লোক!সেখানে আপনার কাছাকাছি থেকেও আপনার শেষ ইচ্ছাটুকু জানতে পারলাম না।
হে অভিমানী,আপনি আমাদের ছেড়ে চলে গেলেন ওপারে খোদার কাছে।
আজ ছোট ভাই,বড় ভাই,সহপাঠিরা দেশ বিদেশ থেকে সকাল,বিকাল,রাতে কল দিয়ে শুধু কান্নাকাটি করছে।ভাই,জানি এ কান্না শেষ হবার নয়,আমরা কি করব,কাকে নিয়ে বাঁচব....এসব কথার উত্তর কে দিবে ভাই?হে আল্লাহ,জানিনা এত বড় শাস্তি আমাদের কেন দিলে।রিকশা চালক,মাছ ব্যবসায়ি,দিনমজুর,দোকানদার,শিক্ষক সবার শুধু একটি কথা,আমরা কি হারালাম!
কে দেখবে আমাদের?
কি করে ভুলব তোমায় হে প্রিয়নেতা!হে আল্লাহ আপনি উনার পরিবারের দুটি সন্তান তুবা, রঈদ এবং উনার সহধর্মীণী বীথিকা বিনতে হোসাইন ভাবীকে এই শোক সইবার শক্তি দিন।এবং আমার প্রিয় নেতা মজলুম পরোপকারী মরহুম শফিউল বারী বাবু ভাইকে জান্নাতুল ফেরদাউস নসিব করুন আমিন।

0 মন্তব্যসমূহ