ইউনুছ শিকদার : নোয়াখালী কোম্পানীগঞ্জের চর এলাহী ইউনিয়নের গাংচিল এলাকা থেকে এক চিহ্নিত দুর্ধর্ষ গরু চোরকে আটক করেছে স্থানীয় জনতা। আটককৃত জহির ওরফে (জহিরা চোরা) নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার চর এলাহী ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ড় চর কলমি গ্রামের মৃত ছায়েদল হক সর্দারের ছেলে।

রোববার (৫ এপ্রিল দুপুর ২টার দিকে পুলিশ তাকে ঘটনাস্থল থেকে মুমূর্ষ অবস্থায় উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। পরে তাকে চিকিৎসার জন্য কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। 

স্থানীয় জনতা জানান, গত দুদিন আগে কোম্পানীগঞ্জের গাংচিলের মো. আবুল হোসেন ও সেকান্তর মিয়ার (সেকু মাঝি) গরু চুরি হয়। এর সূত্রধরে এলাকাবাসী জানতে পারেন পাশ্ববর্তী এলাকায় কম দামে গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে। এসময় মাংস বিক্রয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট জহিরকে এলাকাবাসী আটক করে গণধোলাই দিলে গরু চুরির বিষয়টি স্বীকার করে। 

জহির এলাকার কয়েকটি গরু চুরি, বসতবাড়ীতে রাতের অন্ধকারে চুরি, পথচারীদেরকে জিম্মীকরে টাকা আদায়, ইয়াবা ব্যবসা, মাদক ব্যবসা ও দোকানঘরের মালামাল লুটসহ এলাকার অনেকগুলো চুরির কথা স্বীকার করেন। 

মো. মোস্তফা নামে এক ভুক্তভোগী জানান, জহিরের সাথে চুরি করতেন এমন কয়েক জনের মধ্যে তারেক, মনা, সেলিম, বাদশা, খবির, মাইন উদ্দিন, বাসুসহ অজ্ঞাত আরো দশবারো জনের কথা স্বীকার করে জহির।

যার ভিডিও ও অডিও রেকর্ড প্রতিবেদকের কাছে প্রমাণ স্বরুপ রয়েছে। বিভিন্ন সময়ে এলাকায় সংঘবদ্ধ হয়ে এরা চুরি করতেন বলেও জানান জহির। এলাকার চিহ্নিত এক সন্ত্রাসী তাদের দলের মুল নেতা বলেও স্বীকার করে সে।

চর এলাহী দক্ষিণ অংশের যুুবলীগ সেক্রেটারী আলী মোহন বলেন; এসব ডাকাতদের কারণে সাধারণ মানুষ আজ দিশেহারা, জহিরগঙ্গরা এলাকার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী। সংরক্ষিত মহিলা মেম্বারের স্বামী ডাক্তার ইউসুফ জানান, এরা অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী বিভিন্ন সময় গাংচিল এলাকায় অস্ত্রের মোহড়া দিয়ে জনমনে আতংক সৃষ্টি করে এমনকি একাধিক নিরীহ মহিলাকে হত্যার হুমকি দিয়ে ধর্ষণ করার অভিযোগ রয়েছে। ভিকটিম মহিলারা সম্মাণের ভয়ে মুখ খুলছে না।

কোম্পানীগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. জামাল হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, আটককৃত জহিরের নামে চুরির অভিযোগ এবং মামলা রয়েছে। বর্তমানে সে গুরুত্বর আহত হওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে প্রেরণ করা হচ্ছে। এবিষয়ে খতিয়ে দেখে পরবর্তীতে পুলিশ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।