ইউনুছ শিকদারঃ বাংলাদেশের আকাশে আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে সূর্যকে ঘিরে সৃষ্টি হয় বিশাল আকৃতির রংধনু বলয়। অসাধারণ সুন্দর এই বলয় স্থানীয় লোকজনের মধ্যে কৌতূহল সৃষ্টি করে অনেকে হন আতঙ্কিত। তাঁরা ঘর থেকে বেরিয়ে মনোমুগ্ধকর এই দৃশ্য অবাক চোখে অবলোকন করেন, আবার কেউ কেউ আতঙ্কগ্রস্থ হন।

সাধারনত বাংলাদেশের মানুষ চন্দ্রগ্রহণ ও সূর্যগ্রহণের সঙ্গে পরিচিত হলেও সূর্য বলয়ের দুর্লভ এই দৃশ্যের সঙ্গে তেমন একটা পরিচিত নয়। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে প্রথম নোয়াখালীর মানুষের নজরে আসে চোখ জোড়ানো এ দৃশ্য। তবে পরবর্তীতে দেশের আরও কয়েক জায়গায় এ দৃশ্য দেখা গেছে বলে জানাগেছে।

শহরের নারী-পুরুষ ও শিশুরা ঘর থেকে বেরিয়ে দীর্ঘক্ষণ দুর্লভ এই দৃশ্য উপভোগ করে। এ নিয়ে শুরু হয় নানা জল্পনা-কল্পনা। অনেকেই ছবি তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দিয়ে নিজেদের ভালো লাগার কথা জানান। অনেকে আবার ভয় পাওয়ার বিষয়টিও উল্লেখ করেন তাদের দেয়া স্টাটাসে।

মূলত; সূর্যের আলো বায়ুমণ্ডলের স্ট্রাটোস্ফিয়ারে পৌঁছানোর পর বরফে পড়ে প্রতিসরণ হয়। যার দৃশ্যমান রূপ এই রংধনু বলয়। এইটা শুধু এই বছর না, ২০১৮ সালের ১২ জুলাই তে ও হয়েছিলো। এমন দৃশ্য দেখে ভীত হওয়ার কোন কারন নাই।

বেলা একটা পর্যন্ত এই দৃশ্য স্পষ্ট দেখা গেছে। এরপর ধীরে ধীরে তা মিলিয়ে যায়।


মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থার (নাসা) ওয়েবসাইট থেকে জানা যায়, এই বলয় ২২ ডিগ্রি হ্যালো (halo) নামে পরিচিত। বিষয়টি ব্যাখ্যা করে বিজ্ঞানীরা বলেন, বায়ুমণ্ডলের স্ট্রাটোস্ফিয়ারে ছোট ছোট বরফকণা রয়েছে। সূর্যের আলো স্ট্রাটোস্ফিয়ারে পৌঁছানোর পর বরফে পড়ে তা প্রতিসরণ হয়। হ্যালো ২২ ডিগ্রি থেকে ৫০ ডিগ্রি পর্যন্ত হতে পারে। তবে ২২ ডিগ্রি হলেই এই বলয় সবচেয়ে উজ্জ্বল হয়। বায়ুমণ্ডলে জমে থাকা বরফ কণা থেকে প্রতিসরণ হওয়ায় বৃষ্টিরও সম্ভাবনা থাকে।