ইউনুছ শিকদার (সুবর্ণচর) নোয়াখালী : সুবর্ণচরে ব্যাটারী ও গ্যাস চালিত অটো রিক্সা থেকে বিভিন্ন স্থানে চলছে নিরব চাঁদাবাজি। দিশেহারা অসহায় অটো চালকরা, প্রশাসনের নাম ভাঙ্গিয়ে করছে এসব চাঁদাবাজি অথচ জানে না প্রশাসন।
নোয়াখালী জেলার সুবর্ণচর উপজেলাতে ৭ নং পূর্ব চরবাটা ইউনিয়নের বাশখালী সুইজ বর্তমানে (জাবিয়ান নগর) নামক স্হানে সুবর্ণচর উপজেলা ব্যাটারী ও গ্যাস চালিত অটোরিক্সা মালিক কল্যাণ সমবায় সমিতির, যার রেজিঃ নং- ৭, মোকামঃ বাশখালী সুইজ (জাবিয়ান নগর স্ট্যান্ড) নামে চাঁদা আদায় করার অভিযোগ পাওয়া যায়।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় রাকিব (১৮) পিতাঃ অজ্ঞাত যুবক প্রকাশ্য অটোরিক্সা ও গ্যাস চালিত চলন্ত গাড়ি থামিয়ে চাঁদা আদায় করছে। প্রতিবেদক অভিযুক্ত রাকিব কে প্রশ্ন করেন যে, এই টাকার রশিদ কিসের? কি জন্য নিতেছেন আপনি? রাকিব বলেন গাড়ির দৈনিক জি,পি এটা। কার নির্দেশক্রমে এই চাঁদা আদায় করতেছেন? সে বলে এই সংগঠনের সভাপতির নির্দেশক্রমে। সভাপতি কে তার কাছে জানতে চাওয়া হয়, সে বলেন উক্ত সংঘটনের সভাপতি মুজাম।উপস্হিত স্হলে মুজাম (30) পিতাঃ মফিজুল হক, গ্রাম দক্ষিণ চরমজিদ, ১৩ নং সি,ভি, ওয়ার্ড নং ০৭, ০৭ নং পূর্ব চরবাটা, সুবর্ণচর, নোয়াখালীর বাসিন্দা। রাকিব কে পরিচয় জানতে চাইলে, সে অটোরিক্সা চালক বলে নিশ্চিত করেন স্হানীয় ইউ,পি সদস্য আহসান উল্ল্যাহ মিয়ন মেম্বার। মিয়ম মেম্বারের নিকট এই চাঁদাবাজির বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে কোন বৈধ কাগজ পত্র আছে কি না, তিনি বলেন আছে না থাকলে কিভাবে জি,পি তুলছে? । পরে বাংলাদেশ আওয়ামী মটর চালক লীগ সুবর্ণচর উপজেলা কার্যালয়, হারিছ চৌধুরী বাজার, সুবর্ণচর, নোয়াখালী শাখার এক কপি কাগজ দেখায় তারা। সেটা ৭ নং পূর্ব চরবাটা ইউনিয়নের বাংলাদেশ আওয়ামী মটর চালক লীগের। আওয়ামী মটর চালক লীগের সুবর্ণচরের সভাপতি খাঁজা কাশেম এবং চাঁদা আদায়ের বিষয়ে বাংলাদেশ আওয়ামী মটর চালক লীগ সুবর্ণচর শাখার সাধারণ সম্পাদক মোঃ কামরুজ্জামান কামরুল বলেন, চাঁদা তারা কি জন্য, কার হুকুমে আদায় করছে আমার জানা নেই। কোন সংগঠন চাঁদা আদায় করতে হলে, সেই বিষয়ে জেলা কমিটিকে অবহিত করতে হয় কিন্তু সুবর্ণচরে চলছে রাম রজত্ব। বাংলাদেশ আওয়ামী মটর চালক লীগ জেলা কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক বাকেরের নিকট জানতে চাওয়া হয় উক্ত সংগঠনের চাঁদা আদায়ের কোন নিয়ম, বা বৈধ, সংগঠনের গঠনতন্ত্র আছে কি না? তিনি বলেন না। যারা এই সংগঠনের নাম ব্যবহার করে, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী, কর্মকান্ড করেন, অন্যায়কারীদের আমাদের সংগঠনে স্হান নেই। এই সংগঠনের গঠনতন্ত্র, অনুযায়ী,কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। বি,এন,পি ও বাংলাদেশ জামাত ইসলামের হরতাল, সন্ত্রাসী কার্যক্রম, দেশে নৈরাজ্য ও অরাজগতা সৃষ্টি থেকে গরিব চালকদের গাড়ী চালিয়ে ডাল ভাত মুখে তুলে দিতে এই সংগঠন তৈরী করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
নেতারা আরো বলেন, চাঁদাবাজি করার জন্য এই সংগঠন সৃষ্টি হয় নি শুধু চালকের নিরাপত্তা, সুখ দুঃখ দেখার জন্য সৃষ্টি। সুইজ গেটের চাঁদার বিষয়ে ৭ নং পূর্ব চরবাটা ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আবুল বাশার মন্জুর কাছে জানতে চাওয়া হয় এই বিষয়ে আপনি কিছু জানেন কি না, তিনি সাংবাদিক কে বলেন আমি জানি না। তবে চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসী, মাস্তানের কোন স্থান আমার ইউনিয়নে নেই এবং হবে ও না।
অটোরিক্সা চালকদের নিকট থেকে জানা যায় স্থানীয় যুবলীগ নেতা মুজাম নিজের স্বার্থ উদ্ধারে এই সংগঠনের কমিটির অনুমোদন নেন এবং এদের সহযোগী হানিফ (৩০) পিতাঃ হারিছ আহম্মদ, হাছান,(২৭) পিতাঃ মাহদুল হক মাদু, আবুল খায়ের দুলাল (৩৫) পিতাঃ আবুল হোসেন মিকারসাহাব উদ্দিন (৩৪), পিতা : অজ্ঞাত, ছালা উদ্দিন (২৮) পিতাঃ অজ্ঞাত শরিফ (৩০) পিতাঃ অজ্ঞাত সোহেল (৩২) পিতাঃ হোরন ব্যাপারী রাজিব ও মহি উদ্দিন সহ প্রমুখ।
সুবর্ণচর উপজেলা অটোরিক্সা মালিক চালক সমিতির সভাপতি আতিক উল্লাহ সুজনের কাছে এই চাঁদা আদায়ের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, এটা অনিয়ম সাধারণ অটোরিক্সা চালকের উপর জুলুম ছাড়া আর কিছু না।আমার জানামতে ২ নং চরবাটা ইউনিয়নের চরমজিদ ভূঞারহাট বাজারে একটি সংগঠন আছে সকল অটোরিক্সা চালক ও মালিকগণ তারা ঐ সংগঠন তৈরী করেছে। পরে একটি প্রভাবশালী মহল তাদের নিজেদের পকেট ভারী করতে অসাধু উদ্দেশ্য আদায়ে বাশখালী সুইজে একটি সংগঠন তৈরী করে চাঁদা আদায় করছে শুনেছি। যা অন্যায় প্রকাশ্য চাঁদাবাজি ছাড়া কিছুই নয়। এক কিলোমিটারের মাঝে ২ সংগঠন কখনও চলতে পারে না।
চর জব্বার থানার অফিসার ইনচার্জ শাহেদ উদ্দিন বলেন, এই বিষয়ে আমার জানা নেই, আপনাদের মাধ্যামে জানতে পারলাম, বিষয়টি আমি তদন্ত করে দেখবো এবং সত্যতা প্রমাণ পেলে দোষীদের আইন অনুযায়ী ব্যবস্হা গ্রহণ করবো। চাঁদা আদায়ের বৈধতার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, চাঁদা আদায় বলতে তো কোন বৈধতা নেই আইনে। সব ধরনের চাঁদা অবৈধ।
