ইউনুছ শিকদারঃ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি হতে হলে ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা লাগবে স্নাতক ডিগ্রী। আর বিদ্যোৎসাহী দুই সদস্যের শিক্ষাগত যোগ্যতা লাগবে নূন্যতম মাধ্যমিক পাস- প্রজ্ঞাপনে নোয়াখালী কোম্পনীগঞ্জের ৪টি ক্লাস্টার এবং বসুরহাট পৌরসভাসহ সর্বমোট ৯০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ম্যানেজিং কমিটি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। 

প্রাইমারী স্কুলের ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠনে নতুন নীতিমালা জারি করেছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের উপসচিব জাহানারা বেগম স্বাক্ষরিত নীতিমালাটি ১১ নভেম্বর-২০১৯ সোমবার প্রকাশ করা হয়েছে।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণাললয়ের স্মারক নং- ৩৮.০০৮.০৩৫.০০.০০.০০৭.২০১২-৬৬৬ তারিখ ০৬-১১-২০১৯ মোতাবেক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ব্যবস্থপনা কমিটি গঠনের জন্য সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার ও রিটার্নিং অফিসার কর্তৃক নির্বাচনি তফসিল ঘোষণা করা হয়।

তফসিল অনুযায়ী- আজ ১৭ ফেব্রুয়ারি ছিল মনোনয়ন বাছাই এর দিন। আগামীকাল ১৮ ফেব্রুয়ারি মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার, ১৯ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ, ২০ ফেব্রুয়ারি প্রতীক বরাদ্ধ এবং আগামী ২৩ ও ২৪ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের সম্ভাব্য তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে।


উল্লেখ্য, যদি কমিটিতে সাধারন অভিবাবক সদস্য প্রার্থী ৪ জনের বেশি হয় সেই ক্ষেত্রেই কেবল নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। না হয় প্রার্থীত অভিবাকদেরই নির্বাচিত কমিটির সদস্য ঘোষণা করা হবে।

এর আগে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটিতে সভাপতি হওয়ার জন্য শিক্ষাগত যোগ্যতার কোনো শর্ত ছিল না। নতুন নীতিমালা অনুযায়ী ১১ সদস্যের ব্যবস্থাপনা কমিটির মেয়াদ হবে ৩ বছর। কমিটির সদস্য সচিব থাকবেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। এছাড়া শিক্ষক প্রতিনিধি থাকবেন একজন। বিদ্যালয়ের জমিদাতা বা তার উত্তরাধিকারীদের মধ্য থেকে সদস্য থাকবেন একজন। উপজেলা শিক্ষা অফিসারের সিদ্ধান্তে এই সদস্য মনোনীত হবেন।

অভিভাবকদের মধ্য থেকে একজন বিদ্যোৎসাহী নারী এবং একজন পুরুষ সদস্য থাকবেন। এই দুজন সদস্যের ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা হতে হবে এসএসসি পাস। এই দুজন সদস্য মনোনীত করার ক্ষেত্রে প্রধান শিক্ষককে স্থানীয় সংসদ সদস্যের পরামর্শ নিতে হবে।

অভিভাবকদের মধ্য থেকে দুজন পুরুষ ও দুজন নারী অভিভাবক থাকবেন। এই চারজন সদস্য নির্বাচিত করবেন অভিভাবকরা। সহকারী উপজেলা বা সহকারী থানা শিক্ষা অফিসারের নেতৃত্বে নির্বাচন পরিচালনা করতে হবে।

একই উপজেলার সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয় এলাকার কাছাকাছি যেকোনো সরকারি বা বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক বা শিক্ষিকা একজন সদস্য থাকবেন।

এছাড়া সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয় এলাকার ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য বা পৌর কিংবা সিটি করপোরেশন এলাকার কাউন্সিলর পদাধিকার বলে সদস্য থাকবেন।

সভাপতি নির্বাচন: সংশ্লিষ্ট প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও শিক্ষক প্রতিনিধি ব্যতিরেকে অন্য সদস্যদের থেকে একজন সভাপতি এবং একজন সহ-সভাপতি নির্বাচিত হবেন। তবে শর্ত হলো সভাপতিকে নূন্যতম স্নাতক ডিগ্রীধারী হতে হবে।

অ্যাডহক কমিটি: নতুন নীতিমালায় বলা হয়েছে, কোনো বিদ্যালয়ে যুক্তিসঙ্গত কারণে ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠন করা না গেলে সর্বোচ্চ ৬ মাসের জন্য অ্যাডহক (অনানুষ্ঠানিক) কমিটি গঠন করা যেতে পারে। ছয় মাসের মধ্যে নিয়মিত কমিটি গঠন করতে হবে। সভাপতি হবেন সংশ্লিষ্ট ক্লাস্টারের সহকারী উপজেলা বা থানা শিক্ষা অফিসার। ৫ সদস্যের অ্যাডহক কমিটির সদস্য সচিব থাকবেন প্রধান শিক্ষক।

গাংচিল অনলাইন এর পাঠকদের জন্য প্রজ্ঞাপনটি এখানে সংযুক্ত করা হলো।