গাংচিল অনলাইন.কমঃ চলতি মৌসুমে নোয়াখালীর নয়টি উপজেলায় ইরি-বোরো ধান চাষ শুরু হয়েছে। তীব্র শীত ও শৈত্যপ্রবাহ উপেক্ষা করে ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কৃষকরা মাঠে ধান চাষের কাজে ব্যস্ত হয়ে উঠেছেন। তবে নানা প্রতিকূলতায় অনাবাদি থেকে যাচ্ছে প্রায় ৪২ হাজার হেক্টর জমি।
চলতি বছরে জেলায় ৬৪ হাজার ৭৪৭ হেক্টর জমি ইরি-বোরো চাষের আওতায় আনা হলেও কৃষি উপকরণের দাম বৃদ্ধি, সেচ ও লবণাক্ততার কারণে প্রায় ৪২ হাজার হেক্টর কৃষি জমি অনাবাদি থেকে যাচ্ছে। এবার ইরি-বোরোর উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে প্রায় ৫ লাখ ২৭ হাজার ১৬২ মেট্রিক টন।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর জানায়, চলতি বছর নোয়াখালী জেলার সদর, কবিরহাট, কোম্পানীগঞ্জ, চাটখিল, সোনাইমুড়ী, বেগমগঞ্জ, সেনবাগ, সুবর্ণচর ও হাতিয়া উপজেলায় ৬৪ হাজার ৭৪৭ হেক্টর জমি ইরি-বোরো চাষের আওতায় আনা হয়েছে। এর মধ্যে হাইব্রিড ধান ৪৭ হাজার ৭৯৭ হেক্টর ও উপসি ধান ১৬ হাজার ৯৫০ হেক্টর জমি।
ডিসেম্বর মাসে নোয়াখালীতে ইউরিয়া সারের চাহিদা পত্র ৩ হাজার ২৭ মেট্রিক টন পাঠানো হলেও সরবরাহ পাওয়া গেছে ১৬৩ মেট্রিক টন । টিএসপি (ট্রিপল সুপার ফসফেট) চাহিদা ১ হাজার ৭৭৪ মেট্রিক টনের বিপরীতে সরবরাহ পাওয়া গেছে ৩৩ মেট্রিক টন।
এমওপির চাহিদা ১ হাজার ২২৩ মেট্রিক টনের বিপরীতে পাওয়া গেছে ৩১ মেট্রিক টন। ডাই-এমোনিয়াম ফসফেট এর চাহিদা ১ হাজার ৫৫৬ মেট্রিক টন হলেও সরবরাহ পাওয়া গেছে ২৮ মেট্রিক টন।
একাধিক কৃষকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বর্তমান সময়টা ইরি-বোরো চাষের ভরা মৌসুম। প্রতিদিন সেই ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত তারা মাঠে ধান চাষ ও জমি তৈরির কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন। জ্বালানি তেল, সার ও শ্রমিক মজুরির অস্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধির কারণে ধান উৎপাদনে তাদের খরচের পরিমাণ অনেক গুণ বেড়ে গেছে।
অন্যদিকে, অন্য জেলা থেকে আসা শ্রমিকের সংখ্যাও বর্তমানে কম। একজন শ্রমিক সকাল ৮ থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত কাজ করলে দুপুরের খাওয়ার ছাড়াই তাকে মজুরি ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা দিতে হয়।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর নোয়াখালীর উপ-পরিচালক রফিকুল ইসলাম জানান, বর্তমানে সারের কোনো সংকট নেই। ==
জানুয়ারি মাসের হিসাব অনুযায়ী টিএসপি (ট্রিপল সুপার ফসফেট) মজুদ রয়েছে ৭৫৪ মেট্রিক টন, এমওপি রয়েছে ২০৬ মেট্রিক টন, ডাই-এমোনিয়াম ফসফেট রয়েছে ৩৫১ মেট্রিক টন।
এবার প্রতি হেক্টরে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৪ টন শুকনা (ধান)।
