গাংচিল অনলাইন.কম: ওবায়দুল কাদেরই থাকছেন দলের সাধারণ সম্পাদক পদে। দলের বিশ্বস্ত সূত্র এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামী জাতীয় সম্মেলনে আরও একবার দলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে ওবায়দুল কাদেরকেই পছন্দের তালিকায় রেখেছেন। 

ওবায়দুল কাদেরের শারীরিক অসুস্থতার অজুহাতে যারা তাকে দলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে না রাখার পক্ষে ছিলেন আপাতত দৃষ্টিতে তাদের সে আশা আর পুরণ হচ্ছে না। আওয়ামী লীগের একাধিক সিনিয়র নেতাও আকার-ইঙ্গিতে ওবায়দুল কাদের যে দলের পরবর্তী সাধারণ সম্পাদক তারই ইঙ্গিত দিয়ে যাচ্ছেন। 

সূত্র মতে, দল এবং সরকারকে আলাদা করার প্রক্রিয়া এই সম্মেলন থেকেই শুরু হবে। 

এ ব্যাপারে দলীয় প্রধান শেখ হাসিনা সুস্পষ্ট অবস্থান নিয়েছেন। তিনি একাধিক বক্তৃতায় দলীয় নেতা কর্মীদের স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন যে, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দলীয় সংগঠন শক্তিশালী করার জন্য মন্ত্রিত্ব ছেড়েছিলেন। তবে সূত্রমতে, এবারের সম্মেলনে সভাপতি এবং সম্পাদক পদে কোন পরিবর্তন হবে না। তারা দলের এবং সরকারের স্ব-স্ব পদে বহাল থাকবেন। বাকি পদগুলোতে ব্যাপক পরিবর্তন আশার সম্ভাবনা রয়েছে। যারা দলের পদধারী হবেন তারা মন্ত্রিত্ব বা রাষ্ট্রের অন্য কোন গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকতে পারবেন না এমনটাই চাচ্ছেন দলীয় প্রধান শেখ হাসিনা। 

আগামী ২০ এবং ২১ ডিসেম্বর আওয়ামী লীগের কাউন্সিল অধিবেশন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। 

আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা নিশ্চিত করেছেন যে, এবার আওয়ামী লীগ একজন পূর্ণকালীন সাধারণ সম্পাদক নেবেন। এ ব্যাপারে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার সু-স্পষ্ট অবস্থান রয়েছে। দীর্ঘদিন অর্থাৎ টানা তৃতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগের মধ্যে ঢুকে পড়েছে নানামতের নানান সুবিধাবাদী মানুষ, তাঁদের আর্থিক শক্তিও খুব বেশি। তাই সব পক্ষকে ব্যাল্যান্স করেও দল ও আদর্শের জন্য ত্যাগী কর্মী, সমর্থক, বুদ্ধিজীবী, পেশাজীবীদের নিয়ে ভালো কমিটি উপহার দিতে চায় বঙ্গবন্ধু কন্যা। ১০০ ভাগ না হলেও অনেকটাই সাফ সুতরো করে নিতে চান তিনি আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটি, যেমনটি তিনি কিছুটা হলেও করেছেন মহিলা এমপি মনোনয়নের ক্ষেত্রে। 

সাংগঠনিক ওবায়দুল কাদের যে দলের জন্য নিবেদিত প্রাণ তাতে কোনই সন্দেহ নেই। শারীরিক অসুস্থতার সময়ও সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায়ও তিনি দলের ও সরকারের বড় বড় মেগাপ্রকলপগুলোর খবরাখবর নিয়েছেন এবং দিক-নির্দেশনা দিয়েছেন। এমনও শোনা গেছে কিছুটা সুস্থ হওয়ার পরে তিনি প্রথমেই পদ্মাসেতুর বিষয়ে জানতে চেয়েছেন। বর্তমানে সরকার যে কয়টি মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জ নিয়েছেন তার মধ্যে অন্যতম হল পদ্মা সেতু আর মেট্রোরেল। এসব বড় বড় প্রকল্পগুলো দুর্নীতিমুক্ত রাখতেই শেখ হাসিনার পছন্দ ওবায়দুল কাদেরকে। 

এদিকে, দলের সাধারণ সম্পাদক পদে থাকা বা না থাকার বিষয়টি ওবায়দুল কাদের দলীয় প্রধানের হাতেই অর্পণ করেছেন বলে একটি বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে। সূত্রটি আরও জানায়, ওবায়দুল কাদের আরেক মেয়াদে দলের সাধারণ সম্পাদক থাকবেন সেই সাথে তিনি মন্ত্রীও থাকবেন। প্রয়োজনে দক্ষ কাউকে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়য়ের প্রতিমন্ত্রী করা হবে বলেও গুঞ্জন রয়েছে। পদ্মা সেতু আর মেট্রোরেল প্রকল্প শেষ না হওয়া পর্যন্ত ওবায়দুল কাদেরই যে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকছে তা নিশ্চিত করেছে বেশ কযেকটি ঘনিষ্ট সূত্র। 

এদিকে, দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সংগঠক হিসেবে ওবায়দুল কাদেরের বিকল্প এখনো কেউ নেই বলেই দলীয় প্রধান মনে করেন। ওবায়দুল কাদেরের মত এত দীর্ঘ সময় বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিক হিসেবে সারাদেশ কেউ চষে বেড়াননি। তিনি দীর্ঘদিন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি থাকায় সারাদেশে তার আছে বিশাল নেটওয়ার্ক। বিশ্বস্ততা, দলের প্রতি আনুগত্য, কঠোর পরিশ্রম করার মানসিকতা যেমন আছে ঠিক তেমনি আওয়ামী লীগারদের মাঠ পর্যায়ের অধিকাংশই তার ব্যক্তিগত পরিচিতই শুধু নন, তাঁদের ব্যক্তিগত আমলনামার খবরও তার কাছে আছে। অন্যান্য মন্ত্রীদের চেয়ে ওবায়দুল কাদেরের বিরুদ্ধে অনিয়মের কোন অভিযোগ প্রধানমন্ত্রীর কাছে নেই বললেই চলে। তিনি যা করেছেন তা দলীয় স্বার্থেই করেছেন, প্রায় সব কিছুই দলীয় সভাপতির গোচরে এনেই কিছু সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। বর্তমানে চলা দুর্নীতিবিরোধী অভিযানেও ওবায়দুল কাদের অগ্রণী ভূমিকা পালন করছেন। 

দলীয় নানা কর্মকান্ডসহ সরকারের উন্নয়নের ধারাবাহিতা অব্যাহত এবং বাস্তবায়নাধীন মেগা প্রকল্পগুলো দুর্নীতিমুক্ত রাখতে এ মুহূর্তে প্রধানমন্ত্রীর হাতে ওবায়দুল কাদেরের বিকল্প নেই বলেই দলীয় বিভিন্ন সূত্র ও সুধীজনেরা মনে করছেন।