স্টাফ রিপোর্টার (গাংচিল অনলাইন: সুবর্ণচর উপজেলার হাতকাটা দুলালের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে নিরীহ এক কৃষক নোয়াখালী পুলিশ সুপারের আদালতে ধরনা ধরে। পুলিশ সুপারের নির্দেশে চর জব্বার থানার এস আই নাজিম উদ্দীন সরজমিনে গিয়ে ঘটনার তদন্ত করেছেন।
জানা যায়, চর ওয়াপদা ইউনিয়নের ০৯ নং ওয়ার্ডের বধুগঞ্জ এলাকার ভয়ংকর ত্রাস জাহাঙ্গীর আলম ওরফে হাতকাটা দুলাল বহুদিন যাবত বিভিন্ন অনিয়ম, সন্ত্রাসী মাস্তানী করে বেড়াচ্ছে। এমনকি সরকারি রাস্তার গাছ কাটা, প্রজেক্টের মাছ চুরি, ডাকাতিসহ নানা অভিযোগ তার বিরুদ্ধে রয়েছে। বিভিন্ন অপরাধের কারণে একাধিকবার জেল খেটে জামিনে এসে পূর্ণরায় অপরাধে জড়িয়ে পড়ে। তার রয়েছে নিজস্ব বাহিনী, কেউ তার বাহিনীর বিরুদ্ধে কথা বলার সাহস পাচ্ছে না।যদি কেউ হাতকাটা দুলালের বিরুদ্ধে কথা বলে তাকে নারী নির্যাতন মামলার ভয় দেখায়। নাম না বলার শর্তে অনেকেই বলেন, ইতিপূর্বে হাতকাটা দুলাল বহু মানুষকে তার স্ত্রীকে বাদী করে মামলা দিয়ে হয়রানি করেছে।
গত ০৫/০৯/১৯ ইং তারিখে একই এলাকার নিরীহ কৃষক আবদুল মান্নান ওরফে মুনাফের নিকটে ১লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করে, চাঁদা না দিলে তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেয়। উপায়ান্তর না দেখে ভিকটিম মুনাফ স্থানীয় সমাজ ও বধুগঞ্জে মান্যগণ্য ব্যক্তির নিকট বিচারপ্রার্থী হলে, হাতকাটা দুলাল সকলের সামনে নিরীহ মুনাফকে মারধর করে এবং মামলার ভয় দেখায়।
ভিকটিম আবদুল মান্নান পরিবারের জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে নোয়াখালী পুলিশ সুপার বরাবর হাতকাটা দুলালের বিরুদ্ধে মামলা করেন। এলাকাবাসী থেকে জানা যায়, হাতকাটা দুলাল একই এলাকার সোলেমান মিলিটারির ছেলে, সে নিজেকে মুক্তিযুদ্ধার সন্তান পরিচয় দিয়ে নানা অনিয়ম করে সহজে পার পেয়ে যায়। বনদস্যুর আমলে লঙ্গলিয়ার চরের ভয়ংকর বনদস্যু ছিলেন দুলাল।এমনকি সন্ত্রাসী করতে বোমা তৈরি করতে গিয়ে বোমার আঘাতে তার এক হাত ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
প্রতিবেদক হাতকাটা দুলালকে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, আমার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। আমাকে সামাজিকভাবে হ্যায়প্রতিপন্ন করার ভিন্ন প্রয়াস মাত্র।
