ইউনুছ শিকদার(সুবর্ণচর) নোয়াখালীঃ হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। ইতোমধ্যেই দুর্গাপূজা উদযাপনের সকল প্রস্তুতি শেষ হয়েছে। প্রতিমা তৈরির পর এখন চলছে রং তুলির আচড়। দম ফেলার সময় পাচ্ছেন না কারিগররা। সেই সাথে হিন্দু ধর্মাবলম্বী সংগঠনগুলো ও স্থানীয় প্রশাসন থেকেও নেওয়া হচ্ছে বিশেষ প্রস্তুতি। এই উৎসবকে কেন্দ্র করে হিন্দু অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে সাজ সাজ রব বিরাজ করছে।
প্রতি বছরের ন্যায় এবারও শারদীয় দুর্গোৎসব সম্প্রীতির মেলবন্ধনে পরিণত হবে বলে আশা করছেন ধর্মীয় নেতারা। জানা গেছে, এবার নোয়াখালী জেলার সুবর্ণচর উপজেলায় প্রায় ২৮টি ম-পে পূজা অর্চনা পালিত হবে। এর মধ্যে সুবর্ণচর উপজেলায় ২৮টি ম-পে অনুষ্ঠিত হবে দুর্গাপূজা। তৈরি হচ্ছেন পূজারীরা। সেই সাথে প্রস্তুতির শেষ রং পড়ছে প্রতিমায়। ০৪ অক্টোবর মাঝরাতে দেবী বোধন ও ঘট স্থাপনের মধ্য দিয়ে শুরু হবে হিন্দু সম্প্রদায়ের ৫ দিনব্যাপী শারদীয় দুর্গা উৎসব। দুর্গা, গণেষ, মহাদেবী লক্ষ্মী, কার্তিক, স্বরস্বতিকে পূজা অর্চনার মধ্যদিয়ে শুরু হবে হিন্দু ধর্মের সবচেয়ে বড় উৎসব শারদীয় দুর্গা পূজা। ০৮ অক্টোবর মঙ্গলবার রাতে প্রতিমা বির্সজনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে এ উৎসব। সরেজমিন দেখা যায়, সুবর্ণচর এর বিভিন্ন এলাকায় প্রতিমায় রঙ করায় ব্যস্ত কারিগররা। ছোট, বড় ও মাঝারি ধরনের প্রতিমা তৈরি হচ্ছে পূজারীদের জন্য। দেশের বিভিন্ন থেকে কারিগররা সুবর্ণচর এসে প্রতিমা তৈরি করছেন। কারিগররা বলছেন, সকল কাজ ভালোভাবে শেষ করলেও রং এর কাজটি সম্পন্ন হলেই তাদের কাজ চূড়ান্ত কাজ শেষ হবে।
প্রতিমা কারিগর শরীয়তপুর থেকে আসা রঞ্জিত পাল বলেন, সারা বছর আমরা প্রতিমা বানিয়ে থাকি। তবে পূজা আসলে আমাদের কাজ অনেকগুন বেড়ে যায়। তারপরও দুর্গাপূজায় আমাদের কাজ থাকে অনেক বেশি। এ সময় আমাদের দম ফেলার সময় থাকে না। আর বাপ-দাদার কাছ থেকে এ কাজ শিখেছি। তারা যা শিখিয়ে গেছে আমরা তাদের কাজ ধরে রেখেছি। ভালো প্রতিমা তৈরি করতে পারলে আমাদেরও ভালো লাগে।
অপরদিকে সুবর্ণচর উপজেলার বিভিন্ন হিন্দু অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে সাজ সাজ রব বিরাজ করছে। রং বেরং এর লাইট, রাস্তাসহ বিভিন্ন সাজে মন্দিরের গেট সাজানো হচ্ছে। সুবর্ণচর উপজেলার ঘোষফিল্ড, শিবচরণ, হাজীপুর, খাসের হাট, চর আমান উল্যাহ, চরজব্বার, চর ওয়াপদার থানারহাটসহ এলাকার বিভিন্ন মন্ডপের কাজ চলছে দ্রুতগতিতে।
সুবর্ণচর উপজেলার ওয়াপদা ইউনিয়নের ডাঃজগদীসের বাড়ীর মন্দিরের পুজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক হেড মাস্টার কৃঞ্চ পদ দাস বলেন, সুবর্ণচরে এই পূজা উৎসবকে ঘিরে আনন্দের জোয়ার বইছে হিন্দু ধর্মাবলম্বী নারী-পুরুষদের মাঝে। প্রতি বছরের মতো এবারও শান্তিপূর্ণভাবে উৎসব শেষ করতে পারবে বলে আশা করছেন তারা। আইন শৃঙ্খলার অবনতি যাতে না হয় সেজন্য প্রশাসনের পাশাপাশি তারাও কাজ করে যাচ্ছেন। প্রতি ম-পে তাদের স্বেচ্ছাসেবক নিয়োজিত থাকবে।
সুবর্ণচর উপজেলা পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি নিপুন চন্দ্র দাস ও সাধারণ সম্পাদক রতন চন্দ্র তালুকদার বলেন, বর্তমানে সুবর্ণচরে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তৎপর রয়েছে। বর্তমান সরকার, উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসন যে ভূমিকা পালন করেছে এর জন্য আমরা সাধুবাদ জানাই। আমরা বিশ্বাস করি এটা হিন্দু সম্প্রদায়ের দুর্গা পূজা হলেও হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান সবাই মিলে আমরা এ অনুষ্ঠানটি পালন করে থাকি এবং এর আনন্দ আমরা সকলেই ভাগ করে নেই।
এবারের সুবর্ণচর উপজেলায় দূর্গাপুজা মন্ডুপগুলোর মধ্যে অন্যতম আকর্ষণ শ্রীমৎ শ্রী হরিদাস বাবাজির শ্রী শ্রী রাধা কৃষ্ণ সেবাশ্রমের মহামায়া পূজা উদযাপন পরিষদের কার্যক্রমের মধ্যে মুল প্রতিমা ছাড়াও আরো ২২টি প্রতিমা তৈরির মধ্য দিয়ে থিম আকারে পূজা অর্চনা করা হবে। এবারের থিম অসুর বধের রহস্য।
