গাংচিল অনলাইন.কম: চাটখিলের মোহাম্মদপুর ইউপির কুলশ্রী গ্রামে চা দোকানদার হত্যার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত এক প্রবাসীর স্ত্রী ও তার ছেলেকে আটক করা হয়েছে। 

আজ (৫সেপ্টেম্বর) বৃহস্পতিবার বিকেলে এসপি আলমগীর হোসেন এক সংবাদ সম্মেলনে হত্যার রহস্য উদঘাটনের তথ্য জানান।

তিনি জানান, চা ব্যবসায়ীর মরদেহ উদ্ধার করার আগের রাতে মোবাইলে একাধিক কল আসে। সেই তথ্য পুলিশকে জানান নিহতের মেয়ে। এর সূত্র ধরে পুলিশ তথ্য ও প্রযুক্তি ব্যবহার করে নিহত শাহ আলমের কল লিস্ট বের করে। 

কল লিস্টে কুলশ্রী গ্রামের কুয়েত প্রবাসী শাহ আলমের স্ত্রী ইয়াসমিন আক্তারের নম্বর পাওয়া যায়। এর ভিত্তিতে বুধবার রাতে তাকে বাবার বাড়ি থেকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে হত্যার রহস্য উদঘাটন হয়। এরপর তার ছেলে শান্তসহ হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত লাঠিটি উদ্ধার করা হয়। 

তিনি আরো জানান, বৃহস্পতিবার ইয়াছমিন ও শান্ত নোয়াখালীর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শোয়েব উদ্দিন খান ও মুশফিকুল হকের আদালতে স্বীকারোক্তি দেন। ইয়াছমিনের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী, নিহত শাহ আলম প্রায় গভীর রাতে মোবাইলে ইয়াছমিনকে বিরক্ত ও রাতে ঘরের দরজা-জানালায় টোকা দিত। এ বিষয়ে ইয়াছমিনের ছেলে শান্ত মুঠোফোনে শাহ আলমকে শাসান। এরপরও সে ইয়াছমিনকে উত্ত্যক্ত করতে থাকে। তাই ছেলের সঙ্গে আলাপ করে শাহ আলমকে শিক্ষা দেয়ার পরিকল্পনা করেন ইয়াছমিন। 

পরিকল্পনা অনুযায়ী ৪ সেপ্টেম্বর রাতে শাহ আলমকে ডাকেন ইয়াছমিন। ইয়াছমিনের ফোন পেয়ে শাহ আলম ঘরের দরজা বন্ধ করে ইয়াছমিনের বাড়ির দিকে রওনা হন। তিনি কুলশ্রী গ্রামের আবুল কালামের দোকানের সামনে এলে শান্ত ও তার সহযোগী শাহ আলমকে আটক করে দোকানের পিছে নিয়ে যান। পরে তার ঘাড়ে কাঠের লাঠি দিয়ে আঘাত করেন শান্ত। এতেই সে নিহত হয়। পরে শাহ আলমকে উপুড় করে তারা ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।