গাংচিল অনলাইন.কম: ঈদের আগের রাতে হাতে মেহেদি দিতে গিয়ে গণধর্ষণের শিকার হয়ে হাসপাতালের বিছানার শুয়ে কাতরাচ্ছে ভোলা সদর উপজেলার ষষ্ঠ শ্রেণির এক কিশোরী। হাত-পা বাঁধা অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও প্রচুর রক্তক্ষরণ হওয়ায় বর্তমানে সে আশঙ্কাজনক অবস্থায় রয়েছে।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঈদ উপলক্ষে বাজার থেকে দুই মেয়ের জন্য মেহেদি কিনে এনেছিলেন ভোলা সদর উপজেলার চর সামাইয়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের চর সিফলী গ্রামের কৃষক মো. হানিফ (৪০)।
গতকাল রবিবার (১১ আগস্ট) সন্ধ্যায় তিনি গরু বিক্রির টাকা আনতে শহরে যান। বাবা বের হয়ে গেলে দুই বোন রাত ৮টার দিকে পাশ্ববর্তী দুঃসর্ম্পকের আত্মীয় মাহফুজের স্ত্রীর কাছে হাতে মেহেদি দিতে যায়। সেখানে আগে থেকেই অপেক্ষমাণ আল-আমিন (২৫) ওই কিশোরীকে ডেকে তার ঘরে নিয়ে গিয়ে সহযোগী বখাটে যুবক মঞ্জুর আলম (৩০)কে সাথে নিয়ে তার হাত-পা ও মুখ কাপড় দিয়ে বেঁধে ফেলে। এই অবস্থায় দুইজন মিলে তাকে ধর্ষণ করে। পরে কিশোরীর চিৎকারে স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করে মুমূর্ষু অবস্থায় ভোলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ধর্ষক আল-আমিন মাহফুজের ঘরের ভাড়াটিয়া।
ভোলা সদর হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. মমিনুল ইসলাম ধর্ষণের আলামত পেয়েছেন বলে স্বীকার করে জানান, ধর্ষিতার বয়স কম। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক। গোপন অঙ্গ থেকে প্রচুর রক্তক্ষরণ হচ্ছে তার। ডাক্তার না থাকায় সেলাইও করা যাচ্ছে না এই মুহূর্তে। উন্নত চিকিৎসার জন্য কিশোরীকে আজ সোমবার বরিশাল সদরে প্রেরণ করা হবে।
ভোলা পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ কায়সার বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে। আল-আমিন ও মঞ্জুরকে আটকের চেষ্টা চলছে।
